Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্কুল খোলার পর কেরালায় ১৯০ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

স্কুল খোলার পর ১৯০ জন শিক্ষার্থী ও ৭৯ জন শিক্ষক সংক্রমণের ঘটনা জানান দিচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে কেরালার বিদ্যালয়গুলো

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:১৬ পিএম

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য কেরালা। এবার সেই প্রশংসায় বড় ধাক্কা দিল পুনরায় চালু হওয়া স্কুলগুলো।

স্কুল খোলার পর ১৯০ জন শিক্ষার্থী ও ৭৯ জন শিক্ষক সংক্রমণের ঘটনা জানান দিচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে কেরালার বিদ্যালয়গুলো।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের অধীনে গঠিত উচ্চ-শক্তি কমিটির সিদ্ধান্তের পর ১ জানুয়ারি থেকে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলোতে শুধুমাত্র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় ক্লাস শুরু করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একটি শ্রেণিকক্ষের সবাই একসঙ্গে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের মারানচেরি স্কুলের ১৪৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৭ জন শিক্ষক এবং মালাপুরামের ভ্যানেরি এইচএসএসের ৪২ জন শিক্ষার্থী এবং ৪২ জন শিক্ষক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। 

পরে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি)  জানা যায় যে, আক্রান্তরা অনেকেই জেলার একটি বেসরকারি টিউশন কেন্দ্র থেকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। 

কেরালা এখন করোনাভাইরাসের সুপার-স্প্রেডারে পরিণত হবার কারণে টিউশন কেন্দ্রটিও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মারানচেরি স্কুলে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে একজন শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাস টেস্ট পজিটিভ আসলে। পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের যখন পরীক্ষা করা হয়, তখন প্রায় সকলেরই  আক্রান্ত হওয়া বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

সংক্রমণ রোধে রাজ্যের আরও কয়েকটি স্কুল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলা কালেক্টর এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আশেপাশের আরও ছয়টি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে।

উল্লেখ্য, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাকে বিবেচনায় রেখে বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তকে ''উচ্চ ঝুঁকি" হিসেবে গণ্য করে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করেছিল।

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে স্কুলগুলো পুনরায় চালু হওয়ার ফলে অবশ্যই সংক্রমণ বাড়বে জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছিল যে শিক্ষার্থীরা যদি সংক্রামিত হয়, তবে ২৫ শতাংশ এই সম্ভাবনা রয়েছে যে রোগটি তাদের বাড়ির প্রবীণ ব্যক্তি এবং অন্যদের জন্য দেহেও সংক্রামিত হবে। 

সংক্রমণের উচ্চ হারের পিছনে ওনাম ও ক্রিসমাস উৎসব এবং স্থানীয় নির্বাচনে কোভিড-১৯ সাবধানতাসমূহের লঙ্ঘন করাকে দায়ী করা হচ্ছে।

রাজ্য সচিবালয় জানিয়েছেম পরীক্ষামূলকভাবে সরকারী কর্মচারীদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগে কমপক্ষে ৬৫ জন কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ের ক্যান্টিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্বাচনের সমস্ত কোভিড-১৯ সাবধানতাকে উড়িয়ে দিয়ে দেখা যাচ্ছে এই নির্বাচনই সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী।

About

Popular Links