Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতে ফাঁসি হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো নারীর

শবনমের পরিবার তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে সেলিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:৫৫ পিএম

পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করার অপরাধে শবনম নামের এক নারী আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ভারতীয় আদালত। ফলে ভারতের স্বাধীনতার পরে ফাঁসি কার্যকর হতে যাওয়া প্রথম নারী হতে যাচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে অখিলেশ কুমার নামের এক কারাকর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম  হিন্দুস্তান টাইমসকে জানান, উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মথুরা জেলা কারাগার শবনমের ফাঁসি শিগগিরই কার্যকর করতে পারে। তারা সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, শবনম ও তার প্রেমিক সেলিম ২০০৮  সালের ১৪ এপ্রিল রাতে তার পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ১০ মাসের একটি শিশুও ছিল, যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।

শবনমের পরিবার তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে সেলিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল। ২৪ বছর বয়সী শবনম তখন একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। অপরদিকে সেলিম ছিলেন পঞ্চম শ্রেণি পাস। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর শবনম ও সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। 

২০১০ সালে এই দম্পতিকে বিচার আদালতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তাদের ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন রাষ্ট্রপতি ভবনও প্রত্যাখ্যান করেছিল।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যালোচনা আবেদনের বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করে এবং সিদ্ধান্ত দেয়, সেলিম পুরো হত্যাকাণ্ডটি ঘটান শবনমের সহায়তায়। তিনি চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করেন। 

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রায় দেড়শ বছর আগে ভারতের মথুরা কারাগারে নারীদের জন্য প্রথম ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কোনও নারীর ফাঁসি দেওয়া হয়নি। 

সূত্র অনুসারে, রামশ্রী নামক লখনউয়ের এক মহিলাকে ১৯৯৮ সালের এপ্রিলের আগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। কিন্তু কারাগারের অভ্যন্তরে একটি শিশু জন্ম দেওয়ার পর তার মৃত্যুদণ্ড শেষ মুহূর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়।

About

Popular Links