Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সেলফি তোলার বাহানায় স্ত্রীকে খুন!

পাহাড়ে খাদের একদম কিনারায় নিয়ে একটি রোমান্টিক সেলফি তোলার পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সেমরা আয়সালকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেছিলেন তার স্বামী হাকান আয়সাল

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩৪ পিএম

কতটা নিষ্ঠুর হলে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পাহাড়ে ঘোরানোর কথা বলে কেউ হত্যা করতে পারে? তুরস্কে প্রায় তিন বছর আগে ঘটা এমনই এক হত্যাকাণ্ডের কথা সম্প্রতি সামনে এসেছে। 

তুরস্কের একটি পত্রিকা থেকে জানা যায়, পাহাড়ে খাদের একদম কিনারায় নিয়ে একটি রোমান্টিক সেলফি তোলার পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সেমরা আয়সালকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেছিলেন তার স্বামী হাকান আয়সাল।

পত্রিকাটির দাবি সেমরার জীবন বীমার টাকা পাবার লোভেই এই অপরাধটি করেছিলেন তিনি।

২০১৮ সালের জুনে হাকান এবং সেমরা তুরস্কের মুগলা শহরের বাটারফ্লাই ভ্যালিতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

ডেইলি মিরর'র প্রতিবেদন অনুসারে, হাকান প্রথমে তার স্ত্রীর নামে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা নিয়েছিলেন যা প্রায় চার লাখ তুর্কি লিরা বা ৪০ হাজার ৮৬৫ ইউরো সমমূল্যের ছিল যার নমিনি ছিলেন হাকান নিজেই। এরপর হাকান সেমরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং রোমান্টিক ছুটি কাটানোর কথা বলে পাহাড়ে নিয়ে যান।

আইনজীবীদের দাবি, হাকান সেমরাকে নিয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পাহাড়ের উপরে বসে ছিল এটা নিশ্চিত করতে যে আশেপাশে আর কেউ নেই।

প্রথমে একে “দুর্ঘটনা” বলে আখ্যায়িত করা হলেও পরবর্তীতে ওই একই স্থানে বেড়াতে আসা অন্য এক পর্যটকের ধারণ করা ভিডিও থেকে সবাই জানতে পারে আসলে পুরো ঘটনাটি হাকান কর্তৃক পরিচালিত একটি হত্যাকাণ্ড ছিল; যাতে তিনি তার স্ত্রী সেমরাকে হত্যা করে বীমার টাকা আত্মসাৎ করতে পারে। 

এ বিষয়ে সেমরার ভাই নাইম ইয়োলচু বলেন, "সেমরা মারা যাওয়ার পর হাকানের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। সেমরার মরদেহ আনার সময়ও হাকান গাড়িতে চুপচাপ বসেছিলো। হাকাম একদন স্বাভাবিক আচরণ করছিল।"

যদিও এসব তথ্য অস্বীকার করে হাকান বলেছে, "ছবিটি তোলার পরে, সেমরা ফোনটি তার ব্যাগে রাখে এবং আমার ফোন চায়। আমি উঠে ফোন আনতে কয়েক ধাপ দূরে গেলে হঠাৎ পিছন থেকে ওর চিৎকার শুনতে পাই। পিছনে ফিরে তাকালে সেমরাকে কোথাও দেখতে পাইনি আমি।"

"আমি সেমরাকে ধাক্কা দেই নি," আরও বলেন তিনি।

তবে টাকা তোলার জন্য বীমা সংস্থায় গেলেও আবেদন বাতিল হয়ে যায় হাকানের। ফেটিয়ে উচ্চ ফৌজদারি আদালত রায় হাকানকে আইনী হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে এখনও তদন্ত চলছে।

About

Popular Links