Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাস: শ্রীলঙ্কায় মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কবর হবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে

এর আগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সংখ্যালঘুদের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। তখন এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। কারণ ইসলাম ধর্মে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম নেই

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ০৫:৫৪ পিএম

সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কেউ মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে কবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও জাতিসংঘ।

এর আগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সংখ্যালঘুদের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলতে বা দাহ করতে বাধ্য করা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তখন এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। কারণ ইসলাম ধর্মে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম নেই।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ভারত মহাসাগরের মান্নার উপসাগরে ইরানাথিবু দ্বীপটি এখন করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মুসলিম ও খ্রিস্টানদের জন্য নির্ধারণ করেছে লঙ্কান সরকার। এই দ্বীপকে নির্বাচিত করার কারণ হিসেবে এর কম ঘনবসতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বীপটি রাজধানী কলম্বো থেকে তিনশ কিলোমিটার দূরে।

কলম্বো গেজেট জানিয়েছে, সরকারের মুখপাত্র কেহেলিয়া রামবুকভেলা বলেছেন, দ্বীপটির এক পাশে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদে দাফনের জন্য পর্যাপ্ত গাইডলাইন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পুড়িয়ে ফেললে ইনফেকশন ছড়াবে না-এমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বরং দাহ করাকে একটি সাংস্কৃতিক চর্চা হিসেবেই দেখা হয়।

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাই কমিশনার বলেছেন, দাহ করার নীতি মুসলিম, ক্যাথলিক ও কিছু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাদের পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

কিছু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা শ্রীলংকা সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কা মুসলিম কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহামেদ এটাকে “হাস্যকর সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেছেন। “এটা একেবারেই বর্ণবাদী এজেন্ডা,” বলেন তিনি।

ওই দ্বীপের একজন ধর্মযাজক মাধুথিন পাথিনাথার বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে স্থানীয়রাও কষ্ট পেয়েছে।

“আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করি। এটা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর হবে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ওই দ্বীপে আড়াইশোর মতো তামিল বসবাস করে যারা ৯০এর দশকে গৃহযুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কায় মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক ক্ষোভ আছে। তবে গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলক দাহ করার নীতি থেকে সরকার সরে আসার ঘোষণা দিলে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তও তাদের জন্য অবমাননাকর বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪৫০ জনের মধ্যে ৩০০ জনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ইমরান খানের সফরের পর সংখ্যালঘুদের দাফনের সিদ্ধান্ত আসে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকে।

About

Popular Links