Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাপান অলিম্পিকে মশাল বহন করবেন ১১৮ বছরের নারী!

২০১৯ সালে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ১১৮ বয়সী নারীকে তানাকাকে 

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ০৫:০০ পিএম

জাপানে আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অলিম্পিক গেমস। এতে মশাল বহন করবেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি ১১৮ বছর বয়সী কানে তানাকা। 

তানাকা দুবার ক্যান্সারকে জয় করেছেন এবং পার করেছেন দুইটি মহামারি। 

মশালটি তার নিজ জেলা ফুকুওকায় শিমে দিয়ে যাওয়ার পথে অলিম্পিকের শিখা গ্রহণ করবেন কানে তানাকা। 

তানাকার পরিবার ১০০ মিটার পর্যন্ত পথ তাকে হুইলচেয়ারে করে নেবেন। এরপর এই সুপার সেঞ্চুরিয়ান কয়েক কদম পায়ে হেঁটে মশালটি পরবর্তী রানারকে হস্তান্তর করবেন। 

এই ইভেন্টের জন্য তানাকার নতুন এক জোড়া জুতাও রয়েছে। জানুয়ারিতে তার জন্মদিনে তার পরিবার উপহার দেয় এই জুতা জোড়া।

এর আগে ১০৬ বছর বয়সী অ্যাইডা গেম্যানক ২০১৬ সালে অলিম্পিকের মশাল বহন করেছিলেন। ব্রাজিলের অধিবাসী ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ১০১ বছর বয়সী আলেক্সজান্ডার ক্যাপটারেনকো ২০১৪ সালে অলিম্পিকে মশাল বহন করেন।

যে বছর রাইট ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম বিমান চালিয়ে আকাশ জয় করে ইতিহাস রচনা করেন, সেই ১৯০৩ সালেই তানাকার জন্ম। ১৮৯৬ সালে শুরু হওয়া আধুনিক অলিম্পিক গেমসের মতোই প্রায় পুরানো তিনি।

১৯ বছর বয়সেই তিনি একজন চাল দোকানীর সাথে সংসার শুরু করেন। ১০৩ বছর বয়স পর্যন্ত সেই চালের দোকানেই কাজ করেছেন তিনি। তার চারজন সন্তান, পাঁচজন নাতি-নাতনি এবং তার নাতি-নাতনিদেরও আটজন সন্তান রয়েছে। 

১৯৬৪ সালে টোকিওতে শেষবার যখন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়, তখন তানাকার বয়স ছিল ৬১ বছর। যদি গ্রীষ্ম এবং শীতকালীন উভয় সংস্করণের অলিম্পিক গণনা করা হয়, তবে এই বছরের অলিম্পিক তানাকার জীবনের ৪৯ তম অলিম্পিক হবে।

তিনি দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুতে জীবন কাটিয়েছিলেন, যদিও তার নাতি এইজি বলেছিলেন, "অতীত নিয়ে তিনি যে খুব একটা কথা বলেছে এমনটা মনে করতে পারছি না... তিনি সামনের জীবন নিয়ে ভাবেন- তিনি সত্যিই বর্তমানকে যাপন করা উপভোগ করে।"

তানাকা এখন একটি নার্সিংহোমে থাকেন। তিনি সাধারণত সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং বোর্ড গেম ওথেলোর খেলা উপভোগ করেন। তানাকার পরিবার কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন ১৮ মাস যাবত তার সাথে দেখা করতে পারেনি। 

তানাকার পরিবার জানায়, তার এই শরীর ও মন সুস্থ-সতেজ রাখার পেছনে রহস্য হলো তার কৌতূহলী মন ও নিয়মিত গনিতের চর্চা। 

অবশ্য, তানাকা কোনওভাবেই জাপানের একমাত্র শতবর্ষী নন।

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথমবারের মতো দেশটি ৮০,০০০ এরও বেশি শতবর্ষী রেকর্ড করেছে।

২০২০ সালে, জাপানে প্রতি ১,৫৬৫ জনের মধ্যে একজনের বয়স ১০০ বছরেরও বেশি ছিল এবং এদের মধ্যে ৮৮% এর বেশিই নারী।

২০২০ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে নারীদের গড় আয়ু ৮৭.৪৫ বছর, যেখানে পুরুষের গড় আয়ু ৮১.৪০ বছর।

২০১৯ সালে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তানাকাকে বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত ব্যক্তি হিসাবে প্রত্যয়িত করেছে। এখন তানাকার আরও এক মাইলফলকের দিকে নজর রয়েছে। সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির বেঁচে থাকার রেকর্ডটি একজন ফরাসি মহিলার হাতে রয়েছে, যিনি মারা যান ১২২ বছর বয়সে।

তার নাতি এইজি জানান, "তানাকা বলেছিলেন তিনি এই রেকর্ডটিও ভাঙতে চান।" 

তানাকার পরিবার জানায় যে তিনি মশাল রিলে নিয়ে কোনও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না, তবে অলিম্পিকের অংশ হতে পেরে তিনি খুবই উতফুল্ল।

তার ষাটোর্ধ্ব নাতি এইজি তানাকা গণমাধ্যমকে বলেন, "কানে তানাকা এই বয়সেও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন। এটা খুবই দুর্দান্ত বিষয়। আমরা চাই অন্যরাও যেন তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হন। কেউ যেন বয়সকে কখনো কোনো বাধা মনে না করেন।"

উল্লেখ্য, কর্মকর্তারা গত মাসে ঘোষণা দেন, মহামারিতে বিলম্বিত টোকিও ২০২০ অলিম্পিকের মশাল রিলে ফুকুশিমায় ২৫ মার্চ থেকে কোভিড-১৯ এর সতর্কতা মেনে শুরু হবে। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের দশ বছর পুর্তিতে জাপানের প্রতিটি কোণে ভ্রমণ করার আগে মশালটি প্রথম ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলোতে যাবে। 

যারা রাস্তার পাশে থেকে রিলেটি দেখতে চান তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে থাকতে হবে এবং তারা যে অঞ্চলে বাস করেন তার বাইরে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মশাল বহনকারীদের রিলেতে যোগ দেয়ার দুই সপ্তাহ আগে একটি স্বাস্থ্য চেকলিস্ট পূরণ করতে হবে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে কর্মকর্তারা পরামর্শ দেন। 


About

Popular Links