Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেষ হলো জাতিসংঘ বৈঠক, হয়নি আফগানিস্তান বা মিয়ানমার নিয়ে আলোচনা

দুইটি দেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবে এই নিয়ে শুরু হয় বিবাদ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৬ পিএম

আফগানিস্তান বা মিয়ানমার সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য ছাড়াই শেষ হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক। 

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুইটি দেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবে তা নিয়ে সৃষ্ট বিবাদে বিশ্বশক্তি হস্তক্ষেপ করায় কোনো আলোচনা ছাড়াই শেষ হলো এবারের অধিবেশনে। 

এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত গোলাম ইসাকজাইয়ের বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও সোমবার বক্তাদের তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ১০০ জন নেতা এ অধিবেশনে জড়ো হয়েছিলেন। 

নিরাপত্তা পরিষদের একটি দেশের রাষ্ট্রদূত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমি মনে করি, এই তিনটি শক্তির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল।” 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কূটনীতিক এটিকে “বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেছেন। 

এর আগে, গত সপ্তাহে তালেবান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিল যেন তাদের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে ইসাকজাইয়ের পরিবর্তে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

গোষ্ঠীটি বলছে, ইসাকজাই “পরিষ্কারভাবে” রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছি তারা তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। তাই বৈশ্বিক সংস্থায় আফগানিস্তানকে “তার প্রতিনিধিত্ব করা অনুচিত”। 

কিন্তু জাতিসংঘের কূটনীতিকদের মতে, তালেবানের অনুরোধটি অনেক দেরিতে এসেছে এবং ইসাকজাইকে এখনও জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যা রবিবার পাঠানো বক্তাদের তালিকায় আরও স্পষ্ট হয়েছে। 

বিধানসভার সভাপতির মুখপাত্র মনিকা গ্রেলে এএফপিকে বলেন, “আফগানিস্তান সাধারণ বিতর্কে তার অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করেনি।”

এ বিষয়ে জাতিসংঘের একজন উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে, যা মিয়ানমারের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতকে গণতন্ত্র আন্দোলনের স্পষ্টবাদী সমর্থককে কথা বলতে বাধা দিচ্ছে।”

লো প্রোফাইল

মিয়ানমারের সাবেক ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত কিয়াও মো তুন দেশ পরিচালনাকারী সামরিক জান্তাকে অস্বীকার করেছেন। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে সমর্থন করেছে এবং এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পরেও জাতিসংঘে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। 

মে মাসে জান্তা কিয়াও মো তুনের বদলে একজন প্রাক্তন জেনারেলকে নিযুক্ত করে। যদিও জাতিসংঘ এখনও এই নিয়োগ অনুমোদন করেনি।

কিয়াও মো তুন সম্প্রতি মার্কিন তদন্তকারীদের একটি কথিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। যা তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে অথবা অস্বীকার করলে তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হবে তিনি জানান। 

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের জন্য তার পরিকল্পনা ছিল “লো প্রোফাইল”। 

আফগানিস্তান ও মায়ানমারের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিযোগিতামূলক প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন বিষয়টি জাতিসংঘে চূড়ান্ত করা হবে সে বিষয়ে  ভোট গ্রহণ করবে সমাবেশ। 

সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডের নিযুক্ত গিনির প্রতিনিধি অ্যালি ডায়ান বলেন, নতুন সামরিক কর্তৃপক্ষ “জাতীয় ঐক্যের সরকার” গঠনের পরিকল্পনা করছে এবং “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবে। 

“রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজকে অবাধে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কনডের বিরোধীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”

About

Popular Links