Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেসব কারণে আজকাল শিশুরা বেশি কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছে

শিশুর সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশির লক্ষণ দেখা গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:০৯ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় তৃতীয়বারে এসে শিশুদের সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যেও কোভিডের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

কেন শিশুরা সংক্রমিত হচ্ছে?

প্রাথমিক কারণটি বেশ সুস্পষ্ট। শিশুরা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গেই থাকে আর করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, অনেকেই মনে করেন শিশুদের উচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে তাদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণার জন্ম হয়েছে যে, শিশুদের শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদের কোভিডের বিরুদ্ধেও লড়াইয়ে সাহায্য করবে। ফলে, শিশুদের যত্নে অনেক অভিভাবকের মাঝে দেখা গেছে ঢিলেঢালাভাব। আরেকটি কারণ হলো, বাচ্চাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা সম্ভব নয়। তাই বাবা-মা বা আয়ার কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

শিশুদের কোভিড সংক্রমণের তথ্য কম 

আরেকটি বড় কারণ হলো শিশুদের নমুনা কম পরীক্ষা করা হয়। করোনাভাইরাসের উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি-কাশির লক্ষণগুলোর মতোই। আর শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা একটি নিয়মিত ঘটনা, অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়েরা সাধারণ ঠাণ্ডা ও কোভিডের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে কোভিডের লক্ষণ

শিশুদের কোভিড সংক্রমণের লক্ষণগুলো হচ্ছে- কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া বা কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব বা বমি, ক্লান্তি এবং নাক দিয়ে পানি পড়া। যদিও জ্বর এবং কাশিকে কোভিডের সাধারণ লক্ষণ বলা হয়। কিন্তু, অন্যান্য উপসর্গগুলোও বাচ্চাদের মধ্যে দেখা গেছে।

শিশুদের মাঝে কোভিডের তীব্রতা

শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম গুরুতর বলে জানিয়েছে  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, "নবজাতক, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় গুরুতর কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।“

শিশুদের কোভিড সংক্রমণ কেন গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত?

শিশুদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর না হলেও, এমনকি কোনো উপসর্গ না দেখা গেলেও বা হালকা লক্ষণ দেখা দিলেও তারা ভাইরাসের বাহক এবং তাদের মাধ্যমে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্কের মতোই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই তাদের প্রতিও একই রকম যত্নশীল হতে হবে। এছাড়া, শিশুদের জন্য এখন পর্যন্ত সেই অর্থে কোনো টিকা নেই। তাই শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ, সংক্রমণ ক্ষমতা এবং ধরন বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

বৈশ্বিক তথ্য অনুসারে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প এবং ডে কেয়ার সেন্টারে কোভিডের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করা হয়েছে। স্কুল পুনরায় খোলার পর শিশুদের মধ্যে শনাক্তের হারও প্রমাণ করে কেন শিশুদের কোভিড সংক্রমণকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।

অভিভাবকদের করণীয় 

এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে। শিশুদের বেলাতেও কোভিডের নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে, অভিভাবকদের যতটা কম সম্ভব বাইরে যাওয়া, সব সময় মাস্ক পরা, বাসা-বাড়ি সঠিকভাবে স্যানিটাইজ করা এবং শিশুকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা উচিত। শিশুর মাঝে সাধারণ ঠাণ্ডা বা কোভিডের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেহেতু এই মুহূর্তে শিশুদের জন্য টিকা পাওয়া যাচ্ছে না, তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ফ্লুর টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা।

About

Popular Links