Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুজরাট বোমা হামলা: ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

২০০৮ সালে ভারতের গুজরাট রাজ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র আহমেদাবাদে সিরিজ বোমা হামলায় ৫৬ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:২২ পিএম

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরে ২০০৮ সালের সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম গণ মৃত্যুদণ্ডাদেশ। এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আদালত এ হামলার ঘটনায় ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

২০০৮ সালে পশ্চিম গুজরাট রাজ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র আহমেদাবাদের বাজার, বাস এবং অন্যান্য পাবলিক স্থানে সমন্বিত বোমা হামলার ঘটনার ৫৬ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হন। পরে “ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন” নামে একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী বোমা হামলার দায় স্বীকার করে বলেছিল, বিস্ফোরণগুলো গুজরাটে ২০০২ সালের ধর্মীয় দাঙ্গার প্রতিশোধ ছিল। ২০০২ সালের ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।

একই বছরের নভেম্বরে, মুম্বাইয়ের হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীদের দায়ী করা হয়েছিল।

সরকারি আইনজীবী অমিত প্যাটেল বলেন, “বিশেষ আদালতের বিচারক এ আর প্যাটেল দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৪৯ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বাকি ১১ জনকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই হত্যা ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ মামলায় অন্তত ৮০ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও ২৮ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

প্রায় এক দশক ধরে চলা এই বিচারে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। জানা গেছে, সিজোফ্রেনিয়া রোগ নির্ণয়ের পরে জামিনপ্রাপ্ত একজন ব্যতীত ৭৭ অভিযুক্তকেই এতো বছর পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

সহস্র মৃত্যু

২০০২ সালের মারাত্মক ধর্মীয় দাঙ্গার কেন্দ্র আহমেদাবাদে অন্তত ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সূত্র ধরে কুপিয়ে, গুলি করে এবং পুড়িয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

এর আগে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিহতের ঘটনায় ৩১ জন মুসলমানকে ষড়যন্ত্র এবং হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হলে ধর্মীয় দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে।

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তখন গুজরাট রাজ্য সরকারের প্রধান ছিলেন এবং এই ধর্মীয় দাঙ্গা না দেখার ভান করে ছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগও করা হয়েছে।

মৃত্যুর সারি

মৃত্যুদণ্ড ভারতীয় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রজেক্ট ৩৯এ নামে একটি আইন সংস্কার অ্যাডভোকেসি গ্রুপের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের শেষে ভারতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সামির সংখ্যা ৪৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে সর্বশেষ ২০২০ সালের মার্চে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। দিল্লিতে বাসে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

About

Popular Links