Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ম্যাক্রো: ইউক্রেনে হামলা থামাতে রাজি নন পুতিন

ম্যাক্রোকে পুতিন বলেছেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন এবং তিনি যে পরিকল্পনা করে এগিয়ে ছিলেন, সবকিছু সেই মতোই চলছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০৪:৪১ পিএম

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত থামানোর জন্য বারবার কূটনৈতিক পথে আলোচনার চেষ্টা করছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো। তিনি আবার ফোন করেছিলেন পুতিনকে। দেড় ঘণ্টা ধরে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে।

ম্যাক্রোর ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফোনে কথা বলার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “পুতিন পুরো ইউক্রেন দখল করতে চান।” পুতিন নিজেও বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে নব্য-নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত যাবেন।

ম্যাক্রোর জানান, পুতিনের সঙ্গে কথা বলে তার মনে হয়েছে, আরও ভয়ংকর সময় আসছে। তার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। পুতিনও জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের অভিযান পরিকল্পনা মাফিক চলছে। তিনি নব্য-নাৎসিদের হাত থেকে পুরো ইউক্রেনকে মুক্ত করতে চান।

তিনি মনে করেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মানুষের মধ্যে কোনো ফারাক নেই।

ম্যাক্রো পরে টুইট করে বলেন, “পুতিন ইউক্রেনে হামলা থামাতে রাজি নন। কিন্তু মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে আলোচনা দরকার। আমি সেই প্রয়াস চালিয়ে যাব। আমাদের আরও ভয়ংকর পরিণতি এড়িয়ে যেতে হবে।”

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলি চাইছে, রাশিয়া যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেন থেকে সেনা সরিয়ে নিক।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, “রাশিয়াকে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সেনা সরাতে হবে। নাহলে তারা দীর্ঘদিন ধরে একঘরে হয়ে থাকবে। পুতিন যাবতীয় আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছেন। তিনি নিজের কাজের জন্যই এত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। এখন তিনি একঘরে হয়ে থাকবেন নিজের কাজের জন্যই।”

তবে পুতিন যে এই সব কথা বা চাপকে গ্রাহ্য করছেন না, তা ম্যাক্রোর সঙ্গে তার দীর্ঘ ফোনালাপে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

পুতিনকে ম্যাক্রো বলেছেন, তিনি নিজের কাছেই মিথ্যা কথা বলছেন এবং একটা বড় ভুল করছেন।

ম্যাক্রোর এক সহযোগী সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, “আপনারা বুঝতে পারছেন, কোন পর্যায়ে গেলে একজন প্রেসিডেন্ট আরেকজন প্রেসিডেন্টকে বলতে পারেন, আপনি মিথ্যা কথা বলছেন।”

তিনি জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিন এমন কোনো কথা বলেননি, যাতে আমরা আশ্বস্ত হতে পারি। তিনি সেনা অভিযান চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাক্রো পুতিনকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়াকে এর ফল ভোগ করতে হবে এবং সেটাও দীর্ঘদিন ধরে। ম্যাক্রো বলেছেন, “রাশিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকতে হবে।”

ম্যাক্রোকে পুতিন বলেছেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন এবং তিনি যে পরিকল্পনা করে এগিয়ে ছিলেন, সবকিছু সেই মতোই চলছে। পুতিন এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদীদের যে লড়াই হচ্ছে, তাতে তিনি কোনো সমঝোতা করতে চান না।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সহযোগীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ফোনে কথা খুবই খোলাখুলি হয়েছে। অধিকাংশ সময়েই তারা শান্তভাবে আলোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন খোলাখুলি কথা বলেন এবং সরাসরি কথা বলেন। কখনো কখনো তিনি অধৈর্য হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু আলোচনার মধ্যে কোনো টেনশন ছিল না।

দুই নেতা এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ইউক্রেনের বিষয়ে এই নিয়ে তিনবার দুই নেতার ফোনে কথা হলো।

About

Popular Links