Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হুমকির মুখে অস্ট্রেলিয়ার ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে যাওয়ায় ব্লিচিংয়ের কবলে পড়েছে প্রবালগুলো

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২২, ০৩:১৬ পিএম

সমুদ্রের উষ্ণ পানি থেকে সৃষ্ট চাপের কারণে “ম্যাস ব্লিচিং ইভেন্ট”-এ ভুগছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রবালগুলো।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) রিফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীরটিতে ২০১৬ সালের পর চতুর্থের বারের মতো ম্যাস ব্লিচিং পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “লা নিনা” আবহাওয়ার শীতল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুকেও প্রভাবিত করছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদের পানি উষ্ণ হয়ে যাওয়া প্রবাল ব্লিচিংয়ের অন্যতম প্রধান চালক।

কোরাল ব্লিচিং তখনই ঘটে যখন পরিবেশগত অবস্থার পরিবর্তনের কারণে প্রবালগুলো চাপে পড়ে এবং তাদের টিস্যুতে বসবাসকারী সিম্বিওটিক শ্যাওলাগুলোকে ফেলে দিয়ে সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়। জুঝেনলেথা নামের এই সিম্বিওটিক শ্যাওলাগুলো সালোকসংশ্লেষী এবং সুরক্ষার বিনিময়ে প্রবালগুলোকে খাদ্য সরবরাহ করে।

কেয়ার্নসের উপকূলে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে বেড়ে ওঠা স্টেগহর্ন (অ্যাক্রোপোরা সার্ভিকর্নিস) প্রবাল কলোনির পাশ দিয়ে একটি মাছের ঝাঁক সাঁতার কাটছে, ২৫ অক্টোবর ২০১৯ ফাইল ছবি/রয়টার্স

যদিও প্রবালগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে, তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা হলে এখনও প্রবালগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে রিফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

“আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার ধরণ মেরিন পার্কজুড়ে প্রবাল ব্লিচিংয়ের সামগ্রিক ব্যাপ্তি এবং তীব্রতা নির্ধারণে সমালোচনামূলক রয়ে গেছে,” সমীক্ষায় বলা হয়।

বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানটিকে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা হচ্ছে কি-না তা মূল্যায়ন করার জন্য জাতিসংঘ একটি পর্যবেক্ষণ মিশন শুরু করার চার দিন পর গণ ব্লিচিং প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি জুন মাসে এটিকে “বিপদ” হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আগে জলবায়ু পরিবর্তনসহ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের হুমকি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ান সরকার যথেষ্ট কাজ করছে কি-না তা মূল্যায়ন করা ইউনেস্কোর লক্ষ্য।

এর আগে, গত জুলাইয়ে ইউনেস্কোর সুপারিশের পরও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির একে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত অনেককে অবাক করেছিল।

২০১৫ সালে জাতিসংঘ রিফের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাকে ডাউনগ্রেড করার হুমকি দিলে, অস্ট্রেলিয়া “রিফ ২০৫০” শীর্ষক একটি বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত “গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ” বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার বর্গ মাইল আয়তনের প্রাচীরটি জীবিত প্রাণীদের দ্বারা নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম কাঠামো।

About

Popular Links