Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরিণতির জন্য পশ্চিমকে কেন দায়ী করছেন ইমরান খান?

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান জানিয়েছেন, একটি ‘বিদেশি শক্তি’ তাকে সরানোর পরিকল্পনা করছে

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০২:১০ পিএম

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে রবিবার (৩ এপ্রিল) সংসদে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানিয়েছেন, একটি “বিদেশি শক্তি” তাকে সরানোর পরিকল্পনা করছে।

ভাষণে একবার মুখ ফসকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম বলে ফেলেন ইমরান খান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র- ওহ, না যুক্তরাষ্ট্র নয়, কিন্তু একটি বিদেশি রাষ্ট্র, যার নাম আমি বলতে পারব না। আমি বলতে চাচ্ছি, এক বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা একটি বার্তা পেয়েছি।”

ইমরান অভিযোগ করেন বিরোধীরা পশ্চিমের সঙ্গে মিলে তাকে সরাতে চাইছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমকে অভিযুক্ত করে ইমরান খান জনগণকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিয়ে যেতে চাইছেন। ভারতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত ডয়চে ভেলেকে বলেন, “পররাষ্ট্রনীতিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা বিপজ্জনক হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর।”

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন ইমরান খান। বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের অ্যাক্টিভিস্টদের উপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ এনেছে। এছাড়া তার সময়ে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব অনেক বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন অনাস্থা ভোটের ফল যাই হোক না কেন পাকিস্তান আগাম নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং ইমরান মনে করছেন মার্কিন-বিরোধী বক্তব্য দিলে আগাম নির্বাচন হলেও সেখানে জিতে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন।

“প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই পরবর্তী নির্বাচনের জন্য পশ্চিমা বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন,” বলেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোশাররফ জায়দি।

রাশিয়া যেদিন ইউক্রেনে হামলা চালায় সেদিন মস্কো সফর করেন ইমরান খান। এরপর থেকে তিনি তার সমর্থকদের সামনে নিজেকে “পশ্চিম-বিরোধী” নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “খান সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম-বিরোধী কঠোর সমালোচনা করে বেশ কিছু দেশকে অসন্তুষ্ট করেছেন। ... আমার মনে হয় এমন বার্তা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকেও অসন্তুষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেসামরিক নেতৃত্বের চেয়ে জেনারেলদের বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে।”

কুগেলম্যান মনে করছেন, ইমরান খান বর্তমানে যে সংকটে পড়েছেন তা থেকে উতরে যেতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা আশা করতে পারেন না। কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক ঠিক হবার নয়। সামরিক বাহিনীর অন্যরাও ইমরানকে নিয়ে খুশি নয় বলেও জানান কুগেলম্যান।

About

Popular Links