Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অক্টোপাসের বিলুপ্তি রোধে মেক্সিকোর অভিনব উদ্যোগ

খাদ্য হিসেবে অক্টোপাসের চাহিদা বাড়ায় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এই প্রাণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম

খাদ্য হিসেবে অক্টোপাসের চাহিদা বাড়ায় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এই প্রাণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। মেক্সিকোর গবেষকরা সফল প্রজননের মাধ্যমে অক্টোপাসের সংখ্যা হ্রাস রোধের চেষ্টা করছেন।

তিনটি হৃৎপিণ্ড ও আটটি হাত থাকায় অক্টোপাস সত্যি অসাধারণ এক প্রাণী। সেই হাতের মধ্যেই আবার মস্তিষ্কের সিংহভাগ ছড়িয়ে রয়েছে। ৫০ কোটি স্নায়ুর কোষ এই প্রাণীকে বিশাল ক্ষমতা যোগায়। অক্টোপাস অত্যন্ত চালাক। পরিবেশ অনুযায়ী এই প্রাণী নিজের আকার, রং, এমনকি ত্বকের চরিত্রও বদলাতে পারে।

জীববিজ্ঞানী হিসেবে কার্লোস রোসাস ভাস্কেস বলেন, “এই প্রাণী অনায়াসে নিজেকে পাথরে রূপান্তরিত করতে পারে। দেখলে মনে হবে গায়ে শেওলা ধরেছে। অথবা অতিকায় চেহারা ধারণ করে লাল হয়ে উঠতে পারে।”

মেক্সিকোর উপকূলবর্তী সিসাল শহরের উনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কার্লোস রোসাস অক্টোপাসের জন্য আদর্শ পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন।

এখনো পর্যন্ত পাওয়া গবেষণার ফল অনুযায়ী পানির তাপমাত্রা বাড়লে অক্টোপাস বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কম ডিম পাড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন চলতে থাকলে সেটা একটা সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

কার্লোস বলেন, “আমরা আজ জানি, যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাকি বিশ্বের মতো ক্যারিবীয় সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরও আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। আমরা এমন মডেল সৃষ্টি করতে চাই, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অক্টোপাসের সংখ্যা হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া যায়।”

এখনো ইয়ুকাটান উপকূলের কাছে যথেষ্ট সংখ্যক অক্টোপাস রয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী কম ফ্যাটযুক্ত এই প্রাণীর চাহিদা বেড়েই চলেছে। এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে অক্টোপাসের অভাব দেখা যাচ্ছে।

সিসালের অক্টোপাস শিকারি আন্টোনিও কক গত মরসুমের ব্যবসা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে, এমনকি অক্টোবর পর্যন্ত দারুণ ব্যবসা হয়েছে। কত সময় ধরে আমি কাজ করতে প্রস্তুত, তার উপর সাফল্য নির্ভর করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুপুর একটার মধ্যেই আমার নৌকা ভরে যায়, ৫০০ থেকে ৬০০ পেসো আয় হয়। যারা গোটা দুপুর ধরে অক্টোপাস ধরে, তাদের দুই বা তিন হাজার পেসো আয় হয়।”

অতিরিক্ত মাছ ধরার প্রবণতার কারণে আন্টোনিও ককের মনেও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে। সে কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে মিলে এক প্রজনন কেন্দ্র থেকে অক্টোপাস বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন। সমুদ্র থেকে অক্টোপাস ধরা বন্ধ করে এভাবেই কাজ করতে চান তিনি। আন্টোনিও মনে করেন, “উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হলেও অবশ্যই সাফল্য আসবে। আমি সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত।”

অক্টোপাসের কৃত্রিম প্রজনন বিশ্বব্যাপী মৎস্য শিল্পের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। স্যামন বা চিংড়ি মাছের তুলনায় অক্টোপাস বন্দিদশা মোটেই পছন্দ করে না এবং দ্রুত মরে যায়। কিন্তু মেক্সিকোর গবেষকদের একটি সুবিধা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়া প্রজাতির অক্টোপাস অত্যন্ত শক্তপোক্ত।

জীববিজ্ঞানী কার্লোস রোসাস ভাস্কেস বলেন, “এই প্রাণীটির বয়স দুই মাস। মায়া অক্টোপাস অত্যন্ত ভালো প্রজাতি। প্রথমত, সবাই মিলে এই ট্যাংকের মধ্যে থাকতে এই প্রাণীর কোনো সমস্যা হয় না। পরস্পরের মধ্যে যথেষ্ট সদ্ভাব রয়েছে। তাছাড়া মাদি অক্টোপাসের ডিম থেকে শূককীটের বদলে সরাসরি শাবক বেরিয়ে আসে।”

অক্টোপাসের অন্যান্য প্রজাতি প্যারালার্ভা হিসেবে শাবকের জন্ম দেয়। সেই পর্যায়ে অনেক শূককীট মরে যায়। সিসালের অক্টোপাস এক ধাপ এগিয়ে থাকায় প্রজননের উদ্যোগ বিস্ময়কর রকম সাফল্য পাচ্ছে।

About

Popular Links