Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নূপুর শর্মার পক্ষে পোস্ট: ভারতে আরও একজনকে হত্যা, ৭ মুসলিম আটক

এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ইরফান শেখ নিহত কোলহের ১৬ বছরের পুরনো বন্ধু

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ১০:৪৪ এএম

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার আপত্তিকর মন্তব্যের সমর্থনে পোস্ট করায় মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে একজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই কারণেই রাজস্থানের উদয়পুরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।

অমরাবতীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার উমেশ কোলহে পেশায় কেমিস্ট ছিলেন। গত ২১ জুন তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তবে শনিবারই বিষয়টি প্রথম জানায় মহারাষ্ট্র পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পুলিশ জানায়, নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্যই কোলহেকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত ইরফান শেইখকে শনিবার বেশি রাতে নাগপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদয়পুরের মতো অমরাবতীর ঘটনায়ও ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থা এনআইএ-কে হত্যার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানান, অমরাবতীর বাসিন্দা উমেশ প্রহ্লাদরাও কোলহে (৫৪) ২১ জুন রাতে নিজের দোকান বন্ধ করে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন একদল লোক তার ওপর ছুরি নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। গুরুতর জখম কোলহে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

নিহতের ভাই মহেশ কোলহে বার্তা সংস্থাকে বলেন, “আমার বড় ভাই দোকানের পাশে একটি সরু গলি দিয়ে প্রতিদিন শর্টকাট নিতেন, আততায়ীরা সেখানেই অপেক্ষা করছিল।”

“তার ঘাড়ের বাঁ দিকে কোপ মারা হয়। খবর পেয়ে আমি ছুটে যেতে যেতে তিনি মারা যান।”

এ হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সন্দেহভাজন মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই মুসলিম। তবে এ নিয়ে পুলিশ তখন কোনো মন্তব্য করেনি।

বন্ধুদের গ্রুপে “বিতর্কিত” পোস্ট

মৃত্যুর কয়েকদিন আগে কোলহে তার বন্ধুবান্ধব ও কাস্টমারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে “আই সাপোর্ট নুপূর শর্মা” শীর্ষক একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঠিক ১২ দিনের মাথায় শনিবার পুলিশ জানায়, ওই পোস্টের জেরেই তাকে খুন হতে হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

অমরাবতীর পুলিশ কমিশনার আরতি সিং শনিবার বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি উমেশ কোলহে নুপূর শর্মার বক্তব্যের সমর্থনে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন বলেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।”

“এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী কিছু সঙ্গীকে নিয়ে কোলহেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাকে ধরতে পারলে এই তত্ত্বটা সম্পর্কে আমরা আরও নিশ্চিতভাবে বলতে পারব।”

এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতে মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে গ্রেপ্তার হন প্রধান অভিযুক্ত ইরফান শেখ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভারতীয় পুলিশ।

নিহত মহেশ কোলহের পরিবারের দাবি, ইরফান শেখের সঙ্গে কোলহের গত ১৬ বছর ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তিনি যে এ কাজ করতে পারেন তা তাদের কল্পনার অতীত। তারা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিরও দাবি জানাচ্ছেন।

About

Popular Links