Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাড়ি বিক্রির আগ মুহূর্তে কোটিপতি হয়ে গেলেন ঋণে জর্জরিত মোহাম্মদ

ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়েই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৯ পিএম

বড় অঙ্কের ঋণের সাগরে ডুবে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ বাভা। এমন অবস্থায় গত সপ্তাহে বন্ধু গণেশের কাছ থেকে একটি কল পান। সেই ফোনকলের পর বাভার পুরো পৃথিবীই বদলে যায়। 

সেদিন ওই ফোনকলে বাভার বন্ধু গণেশ তাকে জানিয়েছিলেন তিনি লটারিতে ১০ মিলিয়ন তথা ১ কোটি রুপি জিতেছেন। বাভার কাছে এই সুখবর আসার সময়টা এর চেয়ে যথাযথ আর হতে পারতো না। কারণ ঋণের দায়ে জর্জরিত বাভা যে বসতবাড়ি বিক্রিরই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ভারতের কেরালা রাজ্যের কাসারগড় শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাভা ভবন নির্মাণকাজে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। তখন কিন্তু বাভা কিংবা তার পরিবার কেউই ঋণগ্রস্ত ছিলেন না। গত কয়েক বছরের মন্দায় বাভার আর্থিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করায়। ২০২০ সালের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় তিনি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এরপর বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে শুরু করেন বাভা। পাঁচ সন্তানের মধ্যে সম্প্রতি দুজনের বিয়ে দিয়েছেন। তাদের বিয়ের খরচ যোগাড়ের পাশাপাশি ভালো চাকরির খোঁজে কাতারগামী ছেলেকেও টাকা দিয়েছেন তিনি।

ঋণ নিয়ে পরিবারের খরচ চালালেও বিভিন্ন জায়গায় কাজের খোঁজে ঠিকই গিয়েছিলেন বাভা। কিন্তু কোথাও কাজ পাচ্ছিলেন না তিনি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ঋণের অঙ্কও।

দেনার ভারে ডুবে যাওয়া প্রসঙ্গে বাভা বলেন, দুই সন্তানের বিয়ের খরচের জন্য আমার ১০-১৫ লাখ রূপি যোগাড় করতে হয়েছে। বহু মানুষ আমার কাছে টাকা পেত, কিন্তু সেগুলো পরিশোধের উপায় ছিল না আমার। কারণে আয়ের কোনো উৎস ছিল না আমার।

দেনা বাড়তে বাড়তে এ বছরের জুলাইয়ে বাভার ঋণ গিয়ে ঠেকে ৫০ লাখ রুপিতে। ঋণের বড় অঙ্কটা বাভার পরিবারের জন্য অতিরিক্ত বোঝার মতো ছিল। ঋণ পরিশোধের কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির কঠিন সিদ্ধান্তটি নেয় বাভার পরিবার। বাড়ি বিক্রির পর থাকার জন্য ভাড়া বাসাও ঠিক করে রেখেছিলেন তিনি।

বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও এর আগে ঋণ শোধে মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা হিসেবে লটারির টিকিট কিনতে শুরু করেন বাভা। ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে লটারি অবৈধ হলেও, কেরালায় কঠোর নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে এখনও লটারি কেনাবেচা হয়। বাভা নিয়মিত তার বন্ধু গণেশের ছোট্ট দোকান থেকে লটারির টিকিট কিনতেন। কিন্তু তাতে ফল আসছিল না দেখেই বাড়ি বিক্রির পথ বেছে নিয়েছিলেন বাভা।

ঋণ পরিশোধেরা আশায় নিয়মিত লটারির টিকিট কিনতেন মোহাম্মদ বাভা/বিবিসি

এরপর গত ২৫ জুলাই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় একজন ক্রেতার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল বাভার। সেদিনই বাড়ি বিক্রির কথা পাকাপাকি এবং অগ্রিম বায়নার টাকা পাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এর প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই পাশার দান উল্টে যায়।

ওইদিন দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে লটারি জেতার খবর জানিয়ে গণেশ হোয়াটসঅ্যাপে বাভাকে বার্তা দেন। পরে তিনি ফোনকলে বাভাকে বলেন, শেষ পর্যন্ত তুমি বেঁচে গিয়েছ! পুরো বিষয়টিই তখন বাভার কাছে অলৌকিক এবং স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল।

লটারি জেতার আনন্দের কথা জানিয়ে বাভা বলেন, লটারির খবর শুনে আমার এত স্বস্তি লাগছিল! আমি যে কতটা আনন্দিত হয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

লটারি জেতার পর বাভা নিজের এলাকায় রীতিমত মহাতারকা বনে গেছেন। একই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে তার বাড়ির দরজায় পাওনাদারদের কড়া নাড়াও। 

এ বিষয়ে বাভা বলেন, আমি লটারি জেতার পর পাওনাদারদের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। যখন আপনার কাছে টাকা থাকে না, তখন মানুষ বারবার পাওনা টাকা দাবি করতে থাকে। কিন্তু যখন জেনে যায় যে আপনার কাছে টাকা আছে, তখন তারা নিরব থাকে।         

লটারিতে এক কোটি রুপি জিতলেও কর কেটে বাভার হাতে থাকবে ৬৩ লাখ রূপি। যদিও সে টাকা কবে তার হাতে আসবে, সেটি এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু সেখান থেকে ঋণ পরিশোধের পর বাভার কাছে খুব বেশি টাকা থাকবে না, সেটি নিশ্চিত। তবে এতে বাভার কোনো দুঃখ নেই। কারণ হাতে থাকা বাকি টাকাটা নিজের পেছনে ব্যয় না করে ভালো কাজেই ব্যবহার করতে চান তিনি। 

এ প্রসঙ্গে বাভা বলেন, গণেশ নিজেও অনেক কষ্ট করছে কারণ তারও নিজের বাড়ি নেই। তাই আমি তাকে একটি বাড়ি কিনতে সাহায্য করতে চাই।

এছাড়া, দরিদ্রদের মধ্যেও কিছু টাকা বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন লটারি জিতে মহাতারকা বনে যাওয়া কেরালার এ বাসিন্দা।

About

Popular Links