Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আট বছর আইনি লড়াইয়ের পর সরকারি চাকরি পেলেন কবিতা

তার চেয়ে কম নম্বর পেয়ে চাকরি করছেন এক শিক্ষিকা, এই তথ্য জানার পর আইনি লড়াইয়ে নামেন ওই নারী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ০১:৪২ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্কুল শিক্ষক নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতির খবর সামনে আসছে বহুদিন ধরে। আট বছর ধরে এ নিয়ে লড়ছিলেন কলকাতার কবিতা আঢ্য।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) আদালত তাকে চাকরিতে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১২ সালে কবিতা ভূগোলের শিক্ষিকা পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি হয়নি।

পরে তথ্য অধিকার আইনে চাকরিপ্রাপ্তদের নম্বর জানতে চান কবিতা। দেখা যায়, তার চেয়ে কম নম্বর পেয়ে চাকরি করছেন শ্রীময়ী বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষিকা। এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন কবিতা।

 দীর্ঘ এ লড়াইয়ে আইনজীবী হিসেবে কবিতার সঙ্গে ছিলেন সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রথম কবিতার মামলাটি শোনেন এবং শ্রীময়ীর চাকরি বাতিল করে কবিতাকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে কলকাতার ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে। মামলা দীর্ঘায়িত হতে থাকে।

অবশেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিং মামলার নিষ্পত্তি করেন। নির্দেশ দেন, বাড়ির কাছেই কবিতাকে কোনো স্কুলে নিয়োগ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ২০১৪ সাল থেকে চাকরি করলে কবিতা এখন যা বেতন পেতেন, সেই টাকাই তাকে দিতে হবে। দিতে হবে ২০১৪ সাল থেকে চাকরির যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা।

ভারতের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) অবশ্য সহজে এ নির্দেশ মেনে নিতে চায়নি। তারা প্রথমে বিচারপতিকে জানায়, শূন্যপদ নেই। শুনে বিচারপতি এসএসসি কৌঁসুলিকে তিরস্কার করেন। এরপর ৬০ কিলোমিটার দূরের একটি স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বিচারপতি তা-ও মানতে চাননি।

বলা হয়, এতদিন অপেক্ষার পর অত দূরে যাবেন না কবিতা। অবশেষে বাড়ির কাছেই একটি স্কুলের নিয়োগপত্র পান ওই নারী।

কবিতা জানিয়েছেন, তার মতো আরও অনেকে এখনো লড়াই করছেন। তার অভিযোগ নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে তিনি খুশি।

পশ্চিমবঙ্গে স্কুলে নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতির অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন প্রেসিডেন্সি জেলে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সাবেক কর্মকর্তাও ইডি এবং সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। এমন অবস্থায় কলকাতায় আন্দোলনরত অনেক চাকরিপ্রার্থী নতুন করে আশার আলো দেখছেন।

About

Popular Links