Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাকিস্তানে বন্যায় নতুন জলাভূমি: ‘কেউ জানে না কোথায় তাদের গ্রাম’

‘কেউ জানে না তাদের গ্রাম কোথায়, সাধারণ মানুষ আর তাদের নিজেদের বাড়ি চিনতে পারছেন না’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২৯ এএম

তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা একটি বাঁধের পর থেকে মেহার শহর, মসজিদের মিনার এবং একটি গ্যাস স্টেশনের মূল্য তালিকার বোর্ড দেখা যায়। এই জলাভূমি প্রায় ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত। পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধুর উপকূল পেরিয়ে এখানে শত শত গ্রাম, কৃষি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে হারিয়ে গেছে।

সেখানকার এক গ্রামের বাসিন্দা আয়াজ আলী। তার গ্রাম এখন সাত মিটার (২৩ ফুট) পানির নিচে ডুবে আছে। তিনি এএফপি’কে বলেন, “কেউ জানে না তাদের গ্রাম কোথায়, সাধারণ মানুষ আর তাদের নিজেদের বাড়ি চিনতে পারছেন না।”

রেকর্ড বৃষ্টি এবং বন্যায় সিন্ধু নদী উপচে পড়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিন্ধু সরকার।

বন্যায় পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ। এছাড়াও প্রায় ২০ লাখ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ৭ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২৫৬টি সেতু ধসে পড়েছে।

নৌবাহিনীর ন্যাভিগেটর হিসেবে কাজ করছেন বাস কন্ডাক্টর আয়াজ আলী। তিনি বিদ্যুতের লাইন এবং উঁচু গাছের অবস্থান দেখে গ্রামগুলোকে শনাক্ত করছেন। নৌবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকরা দু’টি লাইফবোটে করে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন এবং স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে তাদেরকে শহরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও এখনও অনেকেই তাদের বাড়িঘর ছাড়তে অস্বীকার করছেন। কারণ তাদের গবাদি পশু চুরি হয়ে যেতে পারে বা মারা যেতে পারে। এছাড়াও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। তাই ভয়ে তারা নিজের ঘরবাড়ি ছাড়তে চাচ্ছেন না।

আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বের হতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছির আলী বলেন, “আমাদের জীবন-মৃত্যু আমাদের গ্রামের সঙ্গে জড়িত। আমরা কীভাবে চলে যাব?।”

পাকিস্তানভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আলখিদমত ফাউন্ডেশনের মুহাম্মদ ইকবাল বলেন, “ক্যাম্পে আরও পরিবার আসছে। আমরা একটি ভয়ানক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

About

Popular Links