Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পনেরো বছর পর স্বাভাবিক হলো ‘ধর্ষিত’ ওরাং ওটাং

ওরাং ওটাংকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো আর এর পুরো শরীরের লোম কামিয়ে রেখে যৌনকর্মে ব্যবহার করা হতো। শুধু তাই নয়, এই প্রাণীকে গহনা পড়িয়ে, সুগন্ধী মাখিয়ে, দেহ ব্যবসা করানো হতো

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৬ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় পতিতা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ওরাং ওটাং প্রজাতির বনমানুষ। প্রায় ১৫ বছর পর মানুষের প্রতি আস্থা করতে পেরেছে এমন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ‘পনি’ নামের একটি ওরাং ওটাং। 

২০০৩ সালে নিরীহ ও বন্ধুসুলভ প্রাণীটিকে এই চক্র থেকে উদ্ধার করা হলেও মানসিক ‘ট্রমা’য় কোনো মানুষের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছিল না। 

মেট্রো ইউকে’র প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, এই ওরাং ওটাংকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো আর এর পুরো শরীরের লোম কামিয়ে রেখে যৌনকর্মে ব্যবহার করা হতো। শুধু তাই নয়, এই প্রাণীকে গহনা পড়িয়ে, সুগন্ধী মাখিয়ে, দেহ ব্যবসা করানো হতো।  

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নেওতে যৌনদাসী করে রাখা হয়েছিলো জানিয়ে বোর্নেও ওরাং ওটাং সার্ভাইভাল ফাউন্ডেশন ইউকে’র পরিচালক মিচেল ডেসিলেটস বলেন, “কবে পনিকে ওরা ধরেছিলো জানিনা, তবে আমরা যখন তাকে উদ্ধার করি তখন ওর ৬ বছর বয়স ছিল। ঘন ঘন শেভ করায় এর চামড়া আক্রান্ত হয়েছিলো। মশার কামড় আর পরজীবির আক্রমণে ওর অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।”

এই প্রাণীটিকে যখন ২০০৩ সালে উদ্ধার করা হয়, তখন এর ‘ম্যাডাম’ (মালিক) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কেননা ‘পনি’ ছিল তার কাছে একটা টাকা কামানোর মেশিনের মতো! এমনকি উদ্ধারকারী গ্রুপকে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হুমকিও দেয় সেখানকার ‘খদ্দের’ পাম তেলের শ্রমিকেরা।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর বর্তমানে এই প্রাণীটি স্বাভাবিক আচরণ শুরু করেছে। উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হলেও অনেক ছোট বয়সে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনার দরুণ বনে টিকে থাকার কৌশল আয়ত্ত করতে পারেনি এই ওরাং ওটাং। তাই নাইরু মেনটেং পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরও ৬টি নারী ওরাং ওটাংয়ের সাথে রাখা হয়েছে পনিকে।

অবাক করা বিষয় হলো, ইন্দোনেশিয়ায় রীতিমত প্রকাশ্যেই বেচা-কেনা চলে এই প্রজাতির ওরাং ওটাংগুলো। যৌনকাজে ব্যবহৃত এই প্রাণীগুলোর দাম প্রায় ১০,০০০ পাউন্ড। আত্মরক্ষা করতে অজ্ঞ এই প্রাণীগুলোর ব্যবসা চলে ফেসবুক বা ইনিস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।


About

Popular Links