Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কলকাতায় কমিউনিস্ট পার্টির বইয়ের স্টল ভাঙচুর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়, প্রদীপের নিচে অন্ধকার। শারদোৎসবের উজ্জ্বল আলোর নিচেও রয়েছে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার চোরা স্রোত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৩৫ পিএম

কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ও প্রতাপাদিত্য রোডের মোড়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) একটি বইয়ের স্টলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের কর্মীরা বারবার স্টল ভাঙচুর করলেও তাদের ধরা হয়নি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিপিএম নেতাদের।

পুলিশ জানিয়েছে, বইয়ের স্টল করা নিয়ে স্থানীয় পূজোয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সিপিএমের বিরোধ চলছিল। শান্তিভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।

সিপিএমের অভিযোগ, “তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বারবার ভাঙচুর করলেও তাদের ধরা হয়নি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিপিএম নেতাদের।” এদিকে তৃণমূলের নেতারা বলছেন, “মানুষের অসুবিধা করে ভিড়ের মধ্যে কেন বইয়ের স্টল করা হবে?”

জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত সপ্তমীর দিন। রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ও প্রতাপাদিত্য রোডের মোড়ে সিপিএমের একটি বইয়ের স্টলকে ঘিরে এই দ্বন্দ্ব। ওই স্টলে একটি পোস্টার ছিল। সেখানে লেখা ছিল, “চোর ধরো, জেল ভরো”। ওই পোস্টার দেখেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বইয়ের দোকানে ভাঙচুর চালায়। এরপর অষ্টমীতে আবার ওই জায়গায় বইয়ের স্টল তৈরি করতে যান সিপিএম নেতারা। এসময় তারা প্রতিবাদসভাও করেন। সেখান থেকেই বিকাশ, কমলেশ্বরসহ অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়, প্রদীপের নিচে অন্ধকার। শারদোৎসবের উজ্জ্বল আলোর নিচেও রয়েছে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার চোরা স্রোত। না হলে বিরোধী বামেদের বইয়ের স্টল এবং তাতে একটি পোস্টার নিয়ে কি করে তুলকালাম হতে পারে কলকাতায়? তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে সিপিএম সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য, পরিচালক কমলেশ্বর ভট্টাচার্যসহ একাধিক সিপিএম নেতাকে।

বইয়ের স্টল থেকে কী করে শান্তিভঙ্গ হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ সাংবাদিক আশিস গুপ্ত বলেছেন, “বইয়ের স্টল তো সিপিএম আজ থেকে করছে না। দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে সিপিএম তথা বাম নেতারা সাধারণত পূজোর আয়োজনের মধ্যে থাকতেন না। কিন্তু তারা মণ্ডপের কাছে বইয়ের স্টল দিতেন।”

আশিস আরও বলেছেন, “বিমান বসুসহ দলের শীর্ষ নেতারা সেখানে নিয়মিত বসতেন। ক্ষমতা হারানোর পরেও তারা বইয়ের স্টল দিচ্ছেন। গত বছরও প্রচুর স্টল দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে স্টল দেওয়া নিয়ে কার কী আপত্তি থাকতে পারে? কলকাতায় রাস্তা বন্ধ করে পূজো করলেও তো অসুবিধা হয় না? গত ১১ বছরে তো বামেদের স্টল নিয়ে কোনো অসুবিধা হয়নি!”

লোকমতের রাজনৈতিক সম্পাদক শরদ গুপ্তা মনে করেন, “বিরোধীরা পূজো করলে তাদের মণ্ডপে আলোর খেলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠবে, তাদের বইয়ের স্টলও রাখা হবে না, এ কোন অসহিষ্ণুতার পূজো দেখছি আমরা?” শরদের প্রশ্ন, “পূজোও কি শুধুই ক্ষমতাসীনদের পূজোতে পরিণত হবে? উৎসব সকলের। প্রকৃত অর্থেই সকলের। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবার।”

আশিস ও শরদ বলছেন, “উৎসবে রাজনীতির রঙ বিবেচ্য নয়, বিচার্য হচ্ছে ভাল লাগার রঙ, ভালোবাসার, সম্প্রীতির, সৌর্ভ্রাতৃত্বের রঙ। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়া এই পূজোর মধ্যে দয়া করে সংকীর্ণতা ঢুকতে দেবেন না। রাজনৈতিক নেতারা পূজো করুন। কিন্তু সেখানে রাজনীতির রঙ যেন প্রবেশ না করে, সেই পূজো যেন উৎসেবর প্রতীক হয়। রাজ্যে যে দুর্নীতি, বেনিয়মের ভয়ংকর অভিযোগ উঠছে, তার ছোঁয়া থেকে পূজো বাদ থাক।”

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “পূজোর ভিড়ে স্টল খুলতে হবে কেন? কোনো একটা রবিবার দেখে ওরা এসব করতে পারেন।”

আশিস বলছেন, “পূজোয় তো জাগো বাংলার স্টলও খোলা হয়। আর বইয়ের স্টল কোথায় খুলতে হবে, সেটাও ঠিক করে দেবেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতা? তারাই বলে দেবেন, বিরোধীরা কী করে জনসংযোগ করবেন? তারা ফতোয়া দেবেন, কোন বই বা কাগজ পড়বে মানুষ, অথবা পূজোর দিনে, উৎসবের দিনে বইয়ের স্টল কারা দেবে, মানুষ কাদের কাছে বই কিনবেন?”

কমলেশ্বরকে গ্রেপ্তার করার পর পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় টুইট করে বলেছেন, “বইকে ভয়? কমলেশ্বরকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে নিন্দার ভাষা নেই। যে কোনো মূল্যে কমলেশ্বরের পাশে থাকব।” যদিও অন্য বুদ্ধিজীবীরা অধিকাংশই এ বিষয়ে নীরব আছেন।

About

Popular Links