Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইরানে চলমান বিক্ষোভের আগুনে ঘি স্কুলছাত্রী আরসার মৃত্যু

আরসা পানাহি উত্তর-পশ্চিম ইরানের আরদাবিল শহরের ছাত্রী ছিলেন। ১৬ বছর বয়সি পানাহিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ০২:০২ পিএম

মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে স্কুলছাত্রী আরসা পানাহির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ছাত্রীদের বিক্ষোভ থামাতে ইরানি পুলিশকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে।

আরসা পানাহি উত্তর-পশ্চিম ইরানের আরদাবিল শহরের ছাত্রী ছিলেন। ১৬ বছর বয়সি পানাহিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আরসা সংখ্যালঘু আজেরি সম্প্রদায়ের মেয়ে। তার মৃত্যুর পরেই ইরানে প্রতিবাদ আরও প্রবল ও সংঘাতপূর্ণ হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, পুলিশ তাকে মারেনি। হৃদযন্ত্রের সমস্যায় সে মারা গেছে।

২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই রকম দাবি করেছিল পুলিশ। হিজাব না পরার অভিযোগে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটার জেরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরান। মাহসার মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই আরসার মৃত্যুর খবর আসায় বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে।

পানাহির মৃত্যু নিয়ে যা জানা গেছে

গত ১৩ অক্টোবর পুলিশ আরদাবিলের স্কুলে যায় এবং ছাত্রীদের ইসলামিক রিপাবলিকের স্তুতির উদ্দেশ্যে গান গাইতে বলে। কিছু ছাত্রী গাইতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বেদম মারধর করা হয়। আরসা ছিল তাদের মধ্যে একজন। শুক্রবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আরসার মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো ইরানে ছড়িয়ে পড়ে।

আরসার চাচার বরাতে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু এরপরই সুইমিং ফেডারেশনের ওয়েবসাইটের একটি তথ্য ভাইরাল হয়। সেখানে বলা ছিল, আরসা ১২ বছর বয়সে ওই অঞ্চলের সাঁতার প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিল। পরে ওই তথ্য ফেডারেশনের ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়।

এদিকে, আরদাবিল শহরের মেয়র নতুন তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, আরসার বাড়িতে গোলমাল চলছিল। সে ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশের মারধরে তিন ছাত্রীর মৃত্যু

সাবেক ফুটবলার আলি দাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আপনারা সত্যি কথা বলছেন না। আমি জানি আমার শহরে কী হয়েছে।” ৫৩ বছর বয়সী আলি জার্মানির বুন্দেসলিগায় বেশ কয়েকটি দলের হয়ে খেলেছেন।

আরসার ঘটনাই প্রথম নয়, গত চার সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষ এরকম আরও কয়েকটি মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইরান বিশেষজ্ঞ রাহা বাহরেইনি ডিডাব্লিউকে বলেছেন, “আমাদের কাছে এই তথ্য আছে যে, আরও তিন ছাত্রী পুলিশের মারধরে মারা গেছেন। তাদের মাথায় আঘাত করা হয়েছিল।”

মাহসা আমিনির পর আরসা পানাহি হত্যাকাণ্ডের জেরে ইরানে চলছে বিক্ষোভ। ছবি এঁকে প্রতিবাদ চলছে দেশে দেশে /ডয়চে ভেলে

তাদের দাবি, “থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিক্ষোভ-সমাবেশে পুলিশের হাতে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মারা গেছে। তার মধ্যে ২০ জন ছেলে, তাদের বয়স ১৭ থেকে ২০-র মধ্যে এবং তিনজন মেয়ে। একটি মেয়ের বয়স ছিল ১৭, বাকি দুইজনের ১৬। ছেলেদের অধিকাংশই গুলি লেগে মারা গেছে। আর মেয়েদের মাথায় আঘাত করা হয়েছিল।”

মৃতদের পরিবারকে পুলিশ ভয় দেখিয়ে বলেছে, তাদের বলতে হবে অসুস্থতার জন্য তারা মারা গেছে বা আত্মহত্যা করেছে।

১৭ বছর বয়সি নিকা শাহকার্মির মা জানিয়েছেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল। ইরানের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, নিকা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তার মা পরে বলেছেন, এ সবই মিথ্যা তথ্য। নিজেদের বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তা বাহিনী স্বেচ্ছাচারিতা করছে।

বিক্ষোভে স্কুলছাত্রীরা

ইরানে যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে, তার সবটাতেই আছে স্কুলের ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা স্কুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। হিজাব পরছে না। সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। তাদের বিক্ষোভের ছবি অনলাইনে ভাইরাল হচ্ছে।

এই বিক্ষোভ দমন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী স্কুলে যাচ্ছে। কখনো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে যাচ্ছে, কখনো অন্য সূত্রে খবর পেয়ে যাচ্ছে। সাদা পোশাকের পুলিশ অফিসাররা গিয়ে জোর করে স্কুলের ক্লাসে ঢুকে ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করছে।

কিছু ক্ষেত্রে স্কুলে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়েছে পুলিশ। সোমবার ইরানের টিচার্স ইউনিয়ন এভাবে ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছে, অমানবিক ও বর্বরোচিতভাবে স্কুলে তল্লাশি করছে পুলিশ।

About

Popular Links