Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় রোগীদের ঝুঁকি, হাসপাতালে বন্ধ টিভি

রোগীদের ম্যাচ দেখা বন্ধ করে দিয়েছে কলকাতার বেশ কয়েকটি হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হার্ট দুর্বল হলে টাইব্রেকার দেখবেন না’

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩০ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় হৃদরোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা। সেই কারণে রোগীদের ম্যাচ দেখা বন্ধ করে দিয়েছে কলকাতার একাধিক হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হার্ট দুর্বল হলে টাইব্রেকার দেখবেন না।”

বাকি দুনিয়ার মতো ফুটবল জ্বরে কাঁপছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ। একের পর এক ম্যাচের ফয়সলা হচ্ছে টাইব্রেকারে। তাতে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল, এগিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফুটবলের উত্তেজনায় যাতে রোগীদের হার্টের ক্ষতি না হয় সেজন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে শহরটির একাধিক হাসপাতাল।

আমরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেবল টিভি থেকে সব ধরনের খেলার চ্যানেল সরিয়ে নিয়েছে। গ্রুপপর্ব থেকে নকআউট ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় খেলা শুরু হয়েছে। তাই আমরি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে রাত ৮টার পর একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে টেলিভিশন।

চার্নক হাসপাতালেরও কড়া নজর রয়েছে বিশ্বকাপের দিকে। যারা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ম্যাচ দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে উদার চার্নক কর্তৃপক্ষ, তাদের খেলা দেখতে বাধা নেই।

ফুটবল পাগল বাঙালির জন্য আরও একটু উদার উডল্যান্ডস হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষ রোগীদের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। তারা টেলিভিশনে পছন্দসই বিনোদন উপভোগ করতে পারেন। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজন মতো ফুটবল দেখায় নিয়ন্ত্রণ জারি করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- মডরিচ:মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়, বিশ্বকাপ তার প্রাপ্য

ফুটবল প্রীতির মধ্যে আশঙ্কার বীজ আছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। বি এম বিড়লা হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অঞ্জন সিয়োটিয়া বলেন, “হৃদরোগের সঙ্গে উত্তেজনার যোগ রয়েছে। ২০০৬-এর বিশ্বকাপ চলাকালীন জার্মানিতে একটি সমীক্ষা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, হৃদরোগের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। জার্মানি যেদিন খেলেছে, সেদিন সংখ্যাটা ছিল আরও বেশি।”

ম্যাচ চলাকালীন ফুটবলারদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার নজির তো আছেই। ২০২১ সালের জুনে ইউরো কাপের স্মৃতি এখনো টাটকা। ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের সময় ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন মাঠে মুখ থুবড়ে পড়েন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। পরে তার বুকে পেসমেকার বসাতে হয়। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেন তিনি।

মাঠের এই উত্তেজনা যেন বহুগুণে বেড়ে যায় গ্যালারিতে। ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, বিশ্বকাপে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে। কলকাতার দুই বড় দল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচের সময় সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবরে বড় ম্যাচে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পরাজিত হয় ইস্টবেঙ্গল। খেলার পর মাঠেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৩৮ বছর বয়সী জয়শঙ্খর সাহা। পরে হাসপাতালে মারা যান ইস্টবেঙ্গলের এই সমর্থক। সেপ্টেম্বরে বিদেশের মাঠেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। স্প্যানিশ লিগে বার্সেলোনার ম্যাচ চলার সময় এক সমর্থক হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সংবাদমাধ্যম জানায়, খেলার সময় যথেষ্ট উত্তেজিত ছিলেন তিনি। যদিও পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই সমর্থক।

আরও পড়ুন- ব্রাজিলের জার্সিতে আর্জেন্টাইন সমর্থক পরীমণি!

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ফরিদপুরের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক ম্যাচ দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। নেদারল্যান্ড নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল শোধ করার পর মেসি ভক্ত মানবেন্দ্রকুমার সাহা অসুস্থতা বোধ করেন। তারপরই মারা যান। এটাকে ফুটবলজনিত উত্তেজনার কারণে মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে।

এর শারীরবৃত্তীয় কারণ ব্যাখ্যা করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুণাল সরকার বলেন, “উত্তেজনার প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পড়ে। একটা থমকে থাকা গাড়ি হঠাৎ ফোর্থ গিয়ারে চললে কী হবে? উত্তেজনার ফলে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লাগে হার্টে। সেটা ফুটবল কেন, অন্য কারণেও হতে পারে। তবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচে উত্তেজনা হয় না, বোরিং খেলা দেখতে গিয়ে আমি ঘুমিয়েও পড়েছি!”

অসুস্থতা থাকলেই যে ফুটবলের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে, এমনটা মনে করেন না অনেক চিকিৎসক। কলকাতার প্রথম সারির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভবতোষ বিশ্বাস বলেন, “ফুটবল দেখলে আনন্দ হয়। আনন্দ থেকে হওয়া উত্তেজনা খারাপ নয়, বরং হার্টের জন্য ভাল। কিন্তু যারা গুরুতর অসুস্থ, তাদের কথা আলাদা। ফুটবল কেন, তাদের সবকিছু থেকেই দূরে রাখতে হবে।”

অনেক হাসপাতাল আবার এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজন দেখছে না। মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের অন্যতম কর্তা ডা. কুণাল সরকার বলেন, “আদিখ্যেতা দেখানো উচিত নয়। খেলা উপভোগ করাটাই আসল।”

About

Popular Links