Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ ‘শনাক্ত’

দেশটির রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ‘ইলেকট্রনিক সিগন্যালিং সিস্টেম একটি ট্রেনকে ভুলভাবে লাইন পরিবর্তন করতে পরিচালিত করে’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৩, ০৮:১৮ পিএম

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অনন্ত ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯০০ জনের বেশি। মর্মান্তিক এই ট্রেন দুর্ঘটনাটির জন্য “ইলেকট্রনিক সিগন্যাল সিস্টেম”-এর একটি সমস্যাকে দায়ী করেছেন দেশটির রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, “দুর্ঘটনাটির জন্য দায়ী হলো ‘ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং'-এর সময় ঘটে যাওয়া পরিবর্তন। এই প্রযুক্তিগত শব্দটি একটি জটিল সংকেত ব্যবস্থাকে বোঝায়। এটি রেললাইনের উপর ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থাপনা করে, যাতে ট্রেনগুলো সংঘর্ষের হাত থেকে থেকে রক্ষা পায়।”

অশ্বিনী বলেন, “চূড়ান্ত রিপোর্টের আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়া ঠিক নয়।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার রাতে ওড়িশার মুখ্য সচিব প্রদীপ জেনা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে (এএনআই) বলেন, “উদ্ধার অভিযান প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। একাধিক মৃতদেহও উদ্ধার করেছেন তারা।”

জেনা বলেন, “দুর্ঘটনার প্রভাবে দুটি ট্রেনের বগি একসঙ্গে চাপা থাকায় উদ্ধার অভিযানের গতি কমে যায়। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মৃতদেহ শনাক্ত করা।”

এদিকে দিল্লির একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, “ইলেকট্রনিক সিগন্যালিং সিস্টেম একটি ট্রেনকে ভুলভাবে লাইন পরিবর্তন করতে পরিচালিত করে। কে বা কারা এটা করেছে এবং কী কারণে করেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

তিনটি ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনাক্রম নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির যাত্রীবাহী ট্রেন “করমণ্ডল এক্সপ্রেস” মূল রেললাইনে প্রবেশের জন্য একটি সংকেত পায়। পরে ট্রেনটি একটি লুপ লাইনে প্রবেশ করে, ফলে পণ্যবাহী দ্বিতীয় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি অন্য ট্র্যাকে উল্টে যায়। ওই ট্র্যাকে আসা তৃতীয় ট্রেন “যশবন্তপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস” এটিকে আঘাত করে।

দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনে দুই হাজারের বেশি লোক ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তার আমলে প্রবর্তিত সংঘর্ষবিরোধী যন্ত্রটি স্থাপন করা হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় মমতা ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক পরিষেবার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

মমতার মন্তব্যের জবাব দেন অশ্বিনী। তিনি বলেন, “মমতা যে সংঘর্ষবিরোধী ব্যবস্থার কথা বলেছেন, সংঘর্ষের কারণের সঙ্গে সেটির কিছু করার নেই।”

ভারত সরকার যখন রেল নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের চেষ্টা করছে, তখনই ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলো। ভারতীয় রেলপথের বেশিরভাগই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে নির্মিত। নিরাপত্তার উন্নতি এবং রেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশটিতে প্রতি বছর কয়েকশ দুর্ঘটনা ঘটে।

About

Popular Links