Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৭২ বছর পর দেখা মিলল হারানো স্ত্রীর!

১৯৪৬ সালে উত্তাল কৃষক আন্দোলনের সময় ছড়িয়ে পড়া দাউদাউ আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছিল তাদের সংসার

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫২ পিএম

দীর্ঘ ছয় যুগ পর প্রথম স্ত্রী সারদার দেখা পেলেন ৯৩ বছর বয়সী ই কে নারায়নন। অভিমানে বাকরুদ্ধ হয়ে থাকলেন ৮৯-এ পা দেওয়া সারদা। ‘কারও উপরেই রাগ নেই’, বললেন শুধু এটুকুই! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরলে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ব্রিটিশ শাসিত ভারতের কেরল রাজ্যের কাভুম্বায়ি গ্রামে ১৯৪৬ সালে উত্তাল কৃষক আন্দোলনের সময় ছড়িয়ে পড়া দাউদাউ আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছিল নারায়নন-সারদার সংসার। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে নারায়নন আর তাঁর বাবা থালিয়ান রমন নাম্বিয়ারকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কান্নুরের পুলিশ। দু’জনেরই হয়েছিল কারাবাস। তার ঠিক এক বছর আগে ১৩ বছরের সারদার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সতের বছর বয়সী নারায়ননের।

৭২ বছর পর সারদার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে নারায়নন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এত দিন পর দেখা হল। কথা বলছ না কেন?’’ তীব্র অভিমানে জলে ভরে গিয়েছিল সারদার চোখ। যেন তার অনুচ্চারিত প্রশ্ন ছিল, বিয়ের ১০ মাস পরেই কেন চলে যেতে হল নারায়ণনকে? যাবেনই যদি, বিয়ে কেন করেছিলেন কেন?

হ্যাঁ, বিয়ের ১০ মাসের মাথায় উত্তাল কৃষক আন্দোলনের জন্যই বাবাকে নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিলেন নারায়ণন। তার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন বাবা-ছেলে দু'জনই। ৮ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের।

নারায়ননের ভাইপো মধু কুমার জানিয়েছেন, তার আগেই তাদের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়ে যায়। নারায়নন আর তার বাবার খোঁজে মালাবারের বিশেষ পুলিশ বাহিনী গভীর রাতে এসেছিল কান্নুরের কাভুম্বায়ি গ্রামে। বাড়িতে সারদাকে একা দেখে পুলিশ তাকে বাপের বাড়িতে রেখে এসেছিল।

স্বামীর ফেরার অপেক্ষাতেই ছিলেন সারদা। কিন্তু তার মধ্যে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। ৪ বছরের মাথায় ১৯৫০-এ সালেম জেলে পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন নারায়ননের বাবা। অন্যদিকে, এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তর শুরু হল নারায়ননের। কখনও কান্নুরে, কখনও ভিয়ুর বা সালেম জেলে।

নারায়ননের জন্য নিষ্ফল অপেক্ষা ছেড়ে সারদার মা-বাবা তাদের মেয়ের আবার বিয়ে দিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে ফের বিয়ে করলেন নারায়ননও। সেটা ১৯৫৭ সালের কথা। তার কয়েক দশক পর সারদার ছেলে ভার্গবনের সঙ্গে আচমকাই দেখা হয়ে যায় নারায়ননের এক আত্মীয়ের। ভার্গবন তখন চাষবাস করছেন। তার বাবা অর্থাৎ সারদার দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সারদার ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে ২ জন মারা গিয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে হারিয়েছেন নারায়ননও। দু’কথা-চার কথার পর ভার্গবন জানতে পারেন, তার মায়ের প্রথম স্বামী নারায়ণন।

তখনই ঠিক হয়ে যায়, দু’জনকে দেখা করিয়ে দিতে হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যে কথা সেই কাজ। সারদার সঙ্গে দেখা করতে আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে নারায়নন চলে আসেন পারাসিনিকাদাভুয়ে ভার্গবনের বাড়িতে। কিন্তু প্রথমে তিনি ঢুকতে পারেননি বাড়িতে। 

ভার্গবন বেরিয়ে এসে জানান, ‘‘মা দেখা করতে চাইছেন না।’’ তারপর ভার্গবনকে অনেক বুঝিয়েসুজিয়ে রাজি করান নারায়নন আর তাঁর আত্মীয়স্বজন। ৮৯ বছর বয়সী সারদার সঙ্গে দেখা হয় নারায়ণনের। ৭২ বছর পর।

ভার্গবনের ভাষায়, দু’জনেই বেশ কিছু ক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন। কোনও কথাই বলতে পারেননি। দু’জনেই কাঁদছিলেন অঝোরে। তার পর দু’জনে এক সঙ্গে দুপুরের খাবার খান।

About

Popular Links