Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট: গোতাবায়া আর্থিক সংকটের কথা গোপন করেছিলেন

রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, বিক্ষোভে উৎখাত হওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকার শ্রীলঙ্কা ‘দেউলিয়া’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যাওয়া দরকার’ এই সত্য জানাননি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৫:৩০ পিএম

বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা যে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে, সেই সত্য সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকার গোপন করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।

সোমবার (১৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, “বিক্ষোভে উৎখাত হওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকার সত্যটা জানায়নি।  শ্রীলঙ্কা ‘দেউলিয়া’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যাওয়া দরকার’ এটা তিনি জানাননি।”

গত সপ্তাহে গণরোষের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া দেশ ছেড়ে পালালে রনিল বিক্রমাসিংহে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। 

রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, “যে কারণে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে আমি জানি, সেটা আমি জনগণকে বলতে পছন্দ করি। আমরা পেছনে পড়ে গেছি। যে সম্পদ আছে, তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের টেনে তুলতে হবে। আমাদের ৫-১০ বছরের প্রয়োজন নেই। আগামী বছরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে। ২০২৪ সাল নাগাদ আমরা একটি কার্যকর অর্থনীতি পাবো, যা ক্রমাগত বাড়তে শুরু করবে।”

গোতাবায়ার সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান রনিল বিক্রমাসিংহে। গোতাবায়া প্রথমে মালদ্বীপ, পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান। তবে বিক্রমাসিংহে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট সিঙ্গাপুর নাকি অন্য কোথাও অবস্থান করছেন, সেটা তিনি জানেন না।

এদিকে বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে ভোট হবে শ্রীলঙ্কায়, তাতে প্রার্থী হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহেও। ছয়বারের এই প্রধানমন্ত্রী কোনোবারই তার ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পার করতে পারেননি। সর্বশেষ মে মাসে বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীন পোদুজানা পেরামুনা পার্টির হাত ধরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়ে আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন কমপক্ষে আরও দুই প্রার্থী।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট পদে বিক্রমাসিংহের মনোনয়ন ইতিমধ্যে টালমাটাল ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিকে নতুন করে বিক্ষোভের ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তার ব্যক্তিগত বাসভবনেও ইতিমধ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এরপরও প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে বিক্রমাসিংহে সিএনএনকে বলেন, “আমি আগের সরকারের কেউ নই, জনগণ বিষয়টি জানে। অর্থনীতি সামাল দিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।”

প্রেসিডেন্ট হয়ে কেন নিজেকে বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু করতে চান- এমন প্রশ্নে বিক্রমাসিংহে বলেন, “আমি চাই না দেশে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক, যা আমার প্রতি হয়েছে, অন্যরাও সে ধরনের ভোগান্তিতে পড়ুক, তা আমি চাই না।...নিশ্চিতভাবে আমি চাই না সেটা অন্য কারও ক্ষেত্রে ঘটুক।”

দেশটিতে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানিয়ে বিক্রমাসিংহে বলেন, পার্লামেন্ট সদস্য এবং পার্লামেন্টকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেবেন না।

বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা এড়াতে সোমবার থেকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন বিক্রমাসিংহে। তিনি সিএনএনকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিভিন্ন জায়গায় হামলার শিকার হয়েছে, তবে আমরা এখনও তাদের অস্ত্র ব্যবহার না করার সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা বলেছি।”

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, “শ্রীলঙ্কার জনগণ কোন অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন তা আমি বুঝতে পারি। তাদের বলেছি, তিনটি বাজে সপ্তাহ কেটেছে…পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমাদের গ্যাস ছিল না, আমাদের ডিজেল ছিল না। এটা খুব খারাপ পরিস্থিতি ছিল।”

About

Popular Links