Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস সম্পন্ন, ক্ষমতা পোক্ত জিনপিংয়ের

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শেষ হয়েছে। পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না থাকার কারণে রাখা হয়নি প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও ওয়াং ইয়াংকে

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২, ০৫:২২ পিএম

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস শেষ হয়েছে। পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পার্টির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না থাকার কারণে রাখা হয়নি প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও ওয়াং ইয়াংকে। 

শনিবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরবর্তী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে শির ঘনিষ্ঠরা যে জায়গা পাচ্ছেন, এটা তারই ইঙ্গিত। আগামীকাল রবিবার দুপুরে এই কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে।

লি মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের প্রধান ওয়াং। দুজনের বয়সই ৬৭ বছর। চীনের প্রথা অনুযায়ী, তারা আরেক মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য সাত সদস্যের শক্তিশালী স্ট্যান্ডিং কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন।

বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শির সঙ্গে এই দুজনের কারোরই দীর্ঘ মেয়াদে ঘনিষ্ঠতা ছিল না। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নতুন চার মুখকে জায়গা করে দিতে পারেন তিনি।

এই কমিটির বর্তমান দুই সদস্য ওয়াং হানিং (৬৭) ও ঝাও লেজি (৬৫) দুজনকেই শির ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। দুজনই ২০৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে তাদের ফের রাখা হতে পারে।

লি ও ওয়াং দুজনেরই কমিউনিস্ট ইয়ুথ লিগের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একসময় গোষ্ঠীটি প্রভাবশালী ছিল। তবে শির অধীনে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে বিশ্লেষকেরা দাবি করছেন। ওয়াং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লির স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বলে কিছু পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন।

শনিবার শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা বাড়িয়ে সংশোধিত দলীয় গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য দলে শির মূল অবস্থান (স্ট্যাটাস) এবং দলের মধ্যে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারার দিকনির্দেশক ভূমিকাকে পোক্ত করা।

গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে অংশ নেওয়া সদস্যরা হাত তুলে সমর্থন জানিয়ে নতুন সংবিধান অনুমোদন করেন। অবশ্য চলতি সপ্তাহে চলা এই কংগ্রেসের অধিকাংশ কার্যক্রমই হয়েছিল রুদ্ধদ্বার।

রবিবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের শুরুতে পরবর্তী পলিটব্যুরো নির্বাচিত করবেন নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। সাধারণত এই কমিটির সদস্য ২৫ জন হয়ে থাকেন।

এরপর একই দিন কেন্দ্রীয় কমিটি পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি নির্বাচিত করবে। এতে ৬৯ বছর বয়সী শি তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করতে যাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটা অনেকটাই নিশ্চিত।

যখন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি গ্রেট হলে সাংবাদিকদের সামনে আসবেন, তখন নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ সময় পদমর্যাদা অনুযায়ী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্য সদস্যরা তাকে অনুসরণ করবেন।

তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত হলে চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক মাও সে-তুংয়ের পরই সির অবস্থান পোক্ত হবে। মাও চীনা পিপলস রিপাবলিকের প্রতিষ্ঠাতা নেতা।

শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক জীবন

শি জিনপিংয়ের জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জুন, রাজধানী বেইজিংয়ে। তবে তার পৈত্রিক নিবাস চীনের হুনান প্রদেশের তেংচু জেলার শিয়িং শহরে।

জিনপিংয়ের বাবা শি জোংশুন সিপিসির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নেতা মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট গেরিলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পরে কমিউনিস্ট সরকারের উপপ্রধানও হন তিনি।

বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৭১ সালে ১৮ বছর বয়সে সিপিসির অঙ্গসংগঠন কমিউনিস্ট ইউথ লীগে যোগ দেন শি জিনপিং। চার বছর ইউথ লীগে কাজ করার পর ১৯৭৫ সালে মূল পার্টি সিপিসির সদস্যপদ পান তিনি।

ওই বছরই চীনের বিখ্যাত কিংহুয়া বিশ্ববিধ্যালয়ে রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক শাখায় ভর্তি হন; এবং ১৯৭৯ সালে ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে সিপিসির সদস্যপদ পাওয়ার পর পার্টির আঞ্চলিক শাখা প্রধান হিসেবে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের চারটি প্রদেশে কাজ করেছেন জিনপিং। এই প্রদেশগুলো হলো শ্যাংসি, হুবেই, ফুচিয়েন ও চচিয়াং। 

২০০২ সালে সিপিসির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ পান জিনপিং। এই পথ ধরেই ২০০৭ সালে সিপিসির পলিটব্যুরো সদস্য ও পরে চীনের রাষ্ট্রপতি হন তিনি।

মূলত তার শাসনামলেই চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি সিপিসিকে শক্তিশালী করতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

About

Popular Links