Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতের আদালত : বিয়ে ছাড়া সম্পর্ক শেষ হলে তা ধর্ষণ নয়

প্রায় দুই দশক আগে সহকর্মী এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক এবং ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন মহারাষ্ট্রের এক নার্স।

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০২ পিএম

নারী-পুরুষ দুজনের সম্মতিতে যদি ভালোবাসার সম্পর্ক হয়, আর শারীরিক সম্পর্ক পরও তা বিয়ের পরিণতি না পায় তাহলে তাহলে কোনো পক্ষই ধর্ষণের দাবি তুলতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের একটি আদালত। 

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আনা ধর্ষণের অভিযোগের শুনানি শেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি একে সিকরি এবং এস আবদুল নাজিরের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, প্রায় দুই দশক আগে সহকর্মী এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক এবং ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন মহারাষ্ট্রের এক নার্স। 

ওই নার্সের দাবি ছিল, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একা হয়ে পড়েন তিনি। সে সময় সহকর্মী এক চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। থাকতেও শুরু করেন একসঙ্গে। কিন্তু পরে অন্য একজনকে বিয়ে করেন ওই চিকিৎসক। পরে অভিযোগ বাতিলের দাবি নিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক। সেখানে আর্জি খারিজ হলে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন তিনি। 

শুনানী শেষে বিচারপতিরা জানান, ধর্ষণ এবং সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। অভিযুক্ত সত্যি সত্যিই বিয়েতে ইচ্ছুক ছিলেন কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত। বুঝতে হবে শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা মেটাতে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে কি না। দ্বিতীয়টি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মামলা দায়ের করা যেতে পারে, ধর্ষণের নয়।

আদালতের যুক্তি, অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে মিথযা আশ্বাস নয়, শুধু ভালবাসা এবং আবেগের বশে পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন নারীরা। কিন্তু পরে প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখা দিলে অনেক সময় বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না ওই সম্পর্ক। বিয়ের ইচ্ছে থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরে সরে দাঁড়াতে হয় পুরুষ সঙ্গীকে। সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা যায় না।

About

Popular Links