Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রিপোর্ট: ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অস্ত্র ব্যবসা কমেছে

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে অস্ত্রের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় কাঁচামালের সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও অস্ত্রের উৎপাদন কম হচ্ছে

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫০ পিএম

ইউক্রেন যুদ্ধ অস্ত্রের প্রচুর কেনা-বেচা হচ্ছে। কিন্তু সার্বিকভাবে তাতে অস্ত্রের বাজারের উন্নতি হচ্ছে না। যুদ্ধের জন্য মার খাচ্ছে ব্যবসা। ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০০টি অস্ত্রের সংস্থা উৎপাদন বাড়িয়েছে। কিন্তু উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে।

সম্প্রতি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিডের সময় থেকে অস্ত্র উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি কমতে শুরু করেছিল কারণ অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সময় মতো পাওয়া যাচ্ছিলো না। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা আরও মার খেয়েছে। কোভিডের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির হার এক বছরে ১.৯% মার খেয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই হার আরও বেড়েছে।

সিপ্রির বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে অস্ত্রের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় কাঁচামালের সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও অস্ত্রের উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সংস্কার সংক্রান্ত যে পদক্ষেপগুলো নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাও সমস্যার মুখে পড়তে পারে। ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র এবং গোলা-বারুদ কিনতে হাজার হাজার ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু চাহিদানুযায়ী অস্ত্র মিলছে না।

অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আসে রাশিয়ার কাছ থেকে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেই কাঁচামাল আসছে না। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবসা সামান্য বাড়লেও তারাও সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। অস্ত্র তৈরির জন্য সেমি কনডাক্টর যোগানে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামাল এবং অস্ত্র রপ্তানির টাকা পেতেও তাদের অসুবিধা হচ্ছে।

কোভিডের সময় থেকেই অস্ত্রের বাজারে মন্দা শুরু হয়েছিল। কাঁচামাল সরবরাহে সমস্যার কারণেই সে সময় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, ২০২১ সালে অস্ত্রের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তা হতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশ্বের প্রথম ১০০টি অস্ত্রের কোম্পানির মধ্যে ৪০টি যুক্তরাষ্ট্রের। অস্ত্র ব্যবসার অর্ধেকের বেশি তারা নিয়ন্ত্রণ করে। এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বে বৈধ অস্ত্র ব্যবসার মোট মূল্য ৫৯২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু মার্কিন কোম্পানিগুলোর শেয়ার ২৯৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ব্যবসার পতন হয়েছে ০.৮%। ইউরোপের কোম্পানিগুলোর মোট অস্ত্র ব্যবসার শেয়ার ১২৩ বিলিয়ন ডলার। গত দুই বছরে সেখানে অস্ত্র ব্যবসা বেড়েছে ৪.২%।

এশিয়ার অস্ত্র কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ার ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। ব্যবসা বেড়েছে ৫.৮%। তবে চীনের মোট অস্ত্র ব্যবসার পরিমাণ এখনো স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

About

Popular Links