Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা’: পশ্চিমা দেশে তদবির করেন জামায়াতের আইনজীবী

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতাদের পক্ষে টবি ক্যাডম্যানকে আইনজীবী নিয়োগ করেছিল দলটি

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৫ পিএম

বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে পশ্চিমা দেশে (যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) তদবির করেছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান।

তদবিরের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও যুক্তরাজ্য সেটি না দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছিলেন।

গত ৬ ডিসেম্বর আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১১ সালে জামায়াতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার শুরু হয়। সেই সময় লন্ডনে টবি ক্যাডম্যানকে নিজেদের আইনি উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের পাঁচ নেতার অ্যাটর্নি তাজুল ইসলাম ওই সময় সংবাদমাধ্যমে জানান, স্টিভেন কে কিউসি, টবি ক্যাডম্যান ও জন ক্যামেঘ জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে সম্মত হয়েছেন।

ক্যাডম্যান আল জাজিরাকে বলেন, আমি নিষেধাজ্ঞার জন্য অনুরোধ দায়ের করেছি। যেহেতু আমি সরাসরি কিছু করতে পারি না। তাই আমি অনুরোধটি ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসের সঙ্গে আলোচনা করি।

ক্যাডম্যান বলেন, নিষেধাজ্ঞার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য উভয়কে অনুরোধ করি। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি র‍্যাবের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। এজন্য যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিভাগে যারা কাজ করে তাদের কাছে তথ্য পাঠাই।

তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে যুক্তরাজ্য একই নিষেধাজ্ঞা দেবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আমি হতাশ হয়েছিলাম।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয় ক্যাডম্যানের মতো হতাশা প্রকাশ করেছেন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের লিয়াজোন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানও। তিনি বলেন, র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের কাছে জমা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্য যেসব প্রমাণ দেওয়া হয়েছিল তা যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে।

আশরাফুজ্জামান আল জাজিরাকে বলেন, প্রমাণগুলো মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও কোষাগারে পাঠানো হয়েছিল, এটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে। সেই প্রমাণ যুক্তরাজ্যেও পাঠানো হয়েছে।

অক্টোবরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন অভিযোগ করে জানায়, সরকারপন্থী মিডিয়া এবং বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত মিত্ররা জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে কার্যকরী বা অনিচ্ছাকৃত ওয়ার্কিং গ্রুপের বিরুদ্ধে একটি অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত নিখোঁজ হওয়া (ডব্লিউজিইআইডি) বা গুম হওয়াদের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান লিখেন, (এশীয় মানবাধিকার) কমিশন যা বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে তা হ'ল এটি কোনও মানবাধিকার সংস্থাকে অবমাননা করার চেষ্টা নয়। বরং উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা তথ্যের অসঙ্গতি ও ভুল চিহ্নিত করা। কারণ এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ছিল।

নভেম্বরে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিএনপিকে নির্ভয়ে রাস্তায় নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যা দলের সাম্প্রতিক সমাবেশে প্রতিফলিত হয়েছে।

About

Popular Links