Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, তালেবানরা বারবার জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতি ভেঙে চলেছে। তারা নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরে বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার পথ তৈরি করছে 

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১২ পিএম

গত বছর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের সময় কট্টরপন্থী তালেবানরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা তাদের কট্টর অবস্থান থেকে সরে আসবে। নারী শিক্ষার প্রতি, নাগরিক অধিকারের প্রতি তারা সম্মান দেখাবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো কিছুই রক্ষা করেনি তারা।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) তালেবানের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর এক চিঠিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তানে নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। শিগগিরই এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ ঘোষণায় তালেবানের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আফগানিস্তানকে এমন সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করতে হবে। পুরো বিশ্বের সঙ্গে আফগানিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, “তালেবানরা বারবার জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতি ভেঙে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তালেবানের এই সিদ্ধান্ত বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”

তালেবান সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে নেড প্রাইস বলেন, “এমন সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশ তালেবান সরকারের বৈধতাকে অস্বীকার করবে; এবং তারা নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরে বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার পথ তৈরি করছে। এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।”

তালেবানের এমন ঘোষণায় দেশটির নারী শিক্ষা আরও বাধার মুখে পড়লো। তিন মাস আগেই দেশটিতে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বসেছিল। এরপরেই নতুন করে তালেবান কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ জারি করলো।

গত বছর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ক্ষমতা দখলের পর আফগান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারীদের জন্য পৃথক শ্রেণিকক্ষ ও প্রবেশপথ চালু করে। এরপর থেকে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের শুধু নারী শিক্ষক বা বয়স্ক পুরুষ শিক্ষক পড়াতে পারতেন।

এমনকি পশু চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থনীতি, কৃষি এবং সাংবাদিকতায় অধ্যায়নের বিষয়ে নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তালেবানের এমন সিদ্ধান্তে কঠোর সমালোচনা হয় বিশ্বজুড়ে। 

তালেবানের সবশেষ নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী বিবিসিকে জানান, তিনি মনে করেন, নারী ও নারীর শক্তিকে ভয় পায় তালেবান।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের পথে আমাদের সম্ভাবনার একমাত্র সেতুটাও তারা ধ্বংস করে দিল। আমি এখন কী বলতে পারি? আমি ভাবতাম, আমি পড়ালেখা চালিয়ে যাব, নিজের ভবিষ্যত পাল্টে দেব, জীবনকে আলোকিত করব। তারা সব ধ্বংস করে দিল।”

About

Popular Links