Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত কোটি টাকার মাথা’ আদেলই আল-কায়েদার অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা

মিশরের জন্ম নেওয়া ও ইরানে বাস করা ‘যুক্তরাষ্ট্রের শত কোটি টাকার মাথা’ সায়েফ আল আদেল জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা’ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৭ এএম

মিশরের জন্ম নেওয়া ও ইরানে বাস করা “যুক্তরাষ্ট্রের শত কোটি টাকার মাথা” সায়েফ আল আদেল জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার “অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা” বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভয়েজ অব অ্যামেরিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদেল মিশরের স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা ও আল কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য; তার মাথার মূল্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আল কায়েদা আয়মান আল জাওয়াহিরির কোনো উত্তরাধিকারীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি, তিনি গত বছর কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিশ্বাস করা হয়; যা ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকে সংগঠনটির জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল, যা তারা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছিলেন, জাওয়াহিরির উত্তরাধিকার অস্পষ্টই রয়ে গেছে; কিন্তু আল কায়েদার ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের ওই পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নভেম্বর ও ডিসেম্বরের আলোচনাগুলোতে অনেক সদস্য রাষ্ট্র এই ধারণাটি গ্রহণ করেছে যে সায়েফ আল আদেল ইতোমধ্যে গোষ্ঠীটির আসল ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে কাজ করছেন।”

ভয়েজ অব অ্যামেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সদস্য রাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কাবুলে আল-জাওয়াহিরির মৃত্যুর বিষয়ে আফগান তালিবানদের প্রতি আল-কায়েদার সংবেদনশীলতার কারণে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে আদেলের উপস্থিতি স্বীকার করা উদ্বেগের কারণ হওয়ায় আল-আদেলের নেতৃত্ব ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে আল-আদেলকে আল-জাওয়াহিরির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও সুদানের যোদ্ধারা মিশরের সাবেক স্পেশাল ফোর্সের এই কর্মকর্তাকে অপারেশনাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দক্ষ কমান্ডার হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আদেল ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মোগাদিশুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা আল-কায়েদার মিশরীয় সহযোগী ঈজিপশিয়ান ইসলামিক জিহাদ এবং সোমালিদের প্রশিক্ষণেও সহায়তা করেছিলেন।

এছাড়া ১৯৯৮ সালে তানজানিয়ার দারুস সালাম এবং কেনিয়ার নাইরোবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনায় আল-আদেলকে অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দুই ঘটনায় ২২৪ জন নিহত এবং হাজারের বেশি আহত হয়েছিলেন।

আদেলের বিষয়ে জাতিসংঘের করা প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে জাতিসংঘে ইরানি মিশনের কাছে ভয়েজ অব অ্যামেরিকার মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আদেল আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। তিনি ওসামা বিন লাদেনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ও জিহাদি আদর্শের প্রবীণ নেতা। মিশরে জন্ম নেওয়া আদেল আল-কায়েদার সেই পাঁচজন পুরোনো সদস্যদের একজন- যাদের এক সময় আল-জাওয়াহিরির ডেপুটি হিসেবে দেখা হতো। সেই পাঁচজনের মধ্যে একমাত্র আল-আদেলই বেঁচে আছেন। 

আদেল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আল কায়েদার হামলা চালানোর সিদ্ধানের বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানা যায়। ওয়েস্ট পয়েন্ট নামে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি একাডেমির একদল গবেষক ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক দলিলে এমনটাই দাবি করেছিলেন।

এতে বলা হয়েছিল, আল-আদেল ও অন্য আরো কয়েকজন সিনিয়র আল-কায়েদা নেতা আশঙ্কা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আকারের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানেও হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বলে দেয়, আল-আদেলের আন্দাজ ছিল নির্ভুল।

আল-কায়েদায় যোগ দেওয়ার আগে সায়েফ আল-আদেলের জীবন কেমন ছিল- সে সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। এফবিআইয়ের তথ্য মতে, সম্ভবত ১৯৬৩ সালের ১১ই এপ্রিল অথবা তার তিন বছর আগে আল-আদেলের জন্ম। তার আসল নাম নিয়েও সংশয় আছে। মনে করা হয়, সায়েফ আল-আদেল (যার অর্থ ন্যায়বিচারের তরবারি) হয়তো একটি ছদ্মনাম।

অনেকের ধারণা, আল-আদেল মিশরীয় বিশেষ বাহিনীর একজন সাবেক কর্নেল মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাক্কাবি। কিন্তু ওয়েস্ট পয়েন্টের গবেষকরা মনে করেন, এ ধারণা ভুল।

About

Popular Links