Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, চীনে নতুন রেকর্ড

২০১৮ সালে শি জিনপিং প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী ২ মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার বিধান ছিল না

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ১২:০৭ পিএম

নতুন রেকর্ড গড়ে টানা তৃতীয়বারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। মাও সেতুংয়ের পর চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা এখন তিনিই।

ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) নামে পরিচিত চীনের ৩ হাজার সদস্যের পার্লামেন্ট শুক্রবার (১০ মার্চ) সর্বসম্মতিক্রমে শি জিনপিংয়ের পক্ষে ভোট দেয়। এ পদের জন্য অন্যকোনো প্রার্থী ছিলেন না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে ভোটগ্রহণ চলে এবং ১৫ মিনিটের মাঝেই ইলেক্ট্রনিক ভোট গণনা সমাপ্ত হয়ে ফলাফল জানা যায়। পার্লামেন্ট একইসঙ্গে পার্লামেন্টের সভাপতি হিসেবে ঝাও লেজি (৬৬) এবং নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে হান ঝেংকে (৬৮) নির্বাচন করে। উভয় ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা।

২০১৮ সালে শি জিনপিং প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী ২ মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার বিধান ছিল না।

গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে ৫ বছরের জন্য পুনর্নিবাচিত হন তিনি।

আগামী ২ দিনে মন্ত্রিসভার খালি হয়ে যাওয়া পদগুলোতে শি নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী পদে লি কিয়াং নিয়োগ পাবেন।

সোমবার বার্ষিক পার্লামেন্টারি অধিবেশনের সমাপ্তির আগে শি জিনপিং বক্তব্য দেবেন। বক্তব্যের সম্ভাব্য বিষয়বস্তুর মধ্যে আছে ৩ বছর করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতির শিকার হওয়া অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো ও পশ্চিমের সঙ্গে চীনের ভঙ্গুর সম্পর্কের উন্নয়ন।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকে চীনের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বকে দায়ী করেন শি জিনপিং।

শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক জীবন

শি জিনপিংয়ের জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। তবে তার পৈত্রিক নিবাস চীনের হুনান প্রদেশের তেংচু জেলার শিয়িং শহরে।

জিনপিংয়ের বাবা শি জোংশুন সিপিসির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নেতা মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট গেরিলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পরে কমিউনিস্ট সরকারের উপপ্রধানও হন তিনি।

বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৭১ সালে ১৮ বছর বয়সে সিপিসির অঙ্গসংগঠন কমিউনিস্ট ইউথ লীগে যোগ দেন শি জিনপিং। চার বছর ইউথ লীগে কাজ করার পর ১৯৭৫ সালে মূল পার্টি সিপিসির সদস্যপদ পান তিনি।

ওই বছরই চীনের বিখ্যাত কিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক শাখায় ভর্তি হন; এবং ১৯৭৯ সালে ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে সিপিসির সদস্যপদ পাওয়ার পর পার্টির আঞ্চলিক শাখা প্রধান হিসেবে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের চারটি প্রদেশে কাজ করেছেন জিনপিং। এই প্রদেশগুলো হলো শ্যাংসি, হুবেই, ফুচিয়েন ও চচিয়াং। 

২০০২ সালে সিপিসির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ পান জিনপিং। এই পথ ধরেই ২০০৭ সালে সিপিসির পলিটব্যুরো সদস্য ও পরে চীনের প্রেসিডেন্ট হন তিনি।

মূলত তার শাসনামলেই চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি সিপিসিকে শক্তিশালী করতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

About

Popular Links