Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুদানে ক্ষমতার লড়াই নিয়ে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২০০

সুদানে সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্তত ২০০ জন নিহত ও ১,৮০০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২৮ এএম

সুদানে সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্তত ২০০ জন নিহত ও ১,৮০০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে সুদানের বহু হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা ও খাবারের সরবরাহ কমে গেছে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, সুদানের সেনাবাহিনী এবং কুখ্যাত আরএসএফর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ীভাবে অস্থিতিশীল বলে পরিচিত সুদানের রাজধানীতে এই লড়াই নজিরবিহীন এবং এমনকি এটি বেশ দীর্ঘায়িতও হতে পারে। যদিও আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে কূটনীতিকরা সক্রিয় হতে শুরু করেছেন।

দুই বাহিনীর মধ্যকার এই সংঘর্ষে বিমান হামলা, আর্টিলারি এবং ভারী গোলাগুলির ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে।

সুদানে জাতিসংঘের মিশনের প্রধান ভলকার পার্থেস রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, “চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৫ জন নিহত এবং আরও ১৮০০ জন আহত হয়েছেন। বৈঠকের পর পার্থেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি খুবই অস্পষ্ট। তাই লড়াইয়ের ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায় স্থানান্তরিত হচ্ছে তা বলা খুব কঠিন।”

এর আগে সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সুদানের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে “অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার” আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, “লড়াইয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে তা ‘দেশ ও অঞ্চলের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে।”

সুদানের ডাক্তারদের ইউনিয়ন সতর্ক করেছে, লড়াইয়ের কারণে খার্তুম এবং অন্যান্য শহরের একাধিক হাসপাতাল “ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত” হয়েছে। এর মধ্যে কিছু শহরের চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ ‘পরিষেবার বাইরে' রয়েছে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন- সুদানে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

২০১৯ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য শুরু হওয়া এক গণঅভ্যুত্থান ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরু করে।  

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকে সেনাবাহিনীর জেনারেলরা “স্বাধীন কাউন্সিল”র নামে দেশ পরিচালনা করছিলেন।

এই স্বাধীন কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হলেন জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো। অপরদিকে স্বাধীন কাউন্সিলের প্রধান হলেন জেনারেল আব্দেল ফাতাহ আল-বুরহান।

বেসামরিক সরকার গঠনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এই বিষয়টি নিয়েই সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

সেনাবাহিনী বলছে, আরএসএফকে দুই বছরের মধ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে। কিন্তু আরএসএফ বলছে, এই একীভূতকরণের প্রক্রিয়া যেন অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফকে একীভূত করলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কে দেবে এ নিয়েও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের অনুপস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। খার্তুমের প্রতিবেশী ওমদুরমান শহরে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সেখানে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। 

এর পাশাপাশি কমান্ড সেন্টার, বিমান ঘাঁটি ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলো নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে।

About

Popular Links