Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুদানের সাবেক স্বৈরশাসক আল-বশির সামরিক হাসপাতালে

সুদানের সাবেক এই স্বৈরশাসক ও তার সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে খার্তুমের উত্তরের বাহরি শহরের কোবের কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩, ১০:০৮ পিএম

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সুদানের সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরকে কারাগার থেকে সামরিক হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামরিক বাহিনী জানায়, ১৫ এপ্রিল সংঘাত শুরুর আগে খার্তুমের কোবের কারাগারে বশিরসহ ৩০ বন্দীকে কাছের আলিয়া সামরিক হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, স্বাস্থ্যের অবস্থার কারণে কারাগারের চিকিৎসা কর্মীদের পরামর্শে বশিরসহ অন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

বশিরের নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে বলেও জানায় কর্মকর্তারা।

সুদানের সাবেক এই স্বৈরশাসক ও তার সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে খার্তুমের উত্তরের বাহরি শহরের কোবের কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল।

দেশটির দুই সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের সময় কারাগারটি আক্রান্ত হয়েছে। যে কারণে গত রবিবার হাজার হাজার বন্দী কারাগার ভেঙে পালিয়ে গেছে।

খার্তুম থেকে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি হিবা মরগান বলেছেন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট বশিরের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তারা লড়াই শেষের অপেক্ষা করছেন; যাতে তিনি বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন।

এদিকে এরমধ্যেই বিরোধী নেতা ইয়াসির আরমান বশিরকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যুদ্ধ চলছে বশিরের সমর্থকদের মধ্যে

২০১৯ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে সুদানে ক্ষমতাচ্যুত হন ৩০ বছর ধরে স্বৈরাচারী শাসন চালানো বশির।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এমনকি ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা দখলের জন্যও তিনি বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বশিরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের উপর ভিত্তি করে যে ক্ষমতার কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

খার্তুমের রাস্তা এবং সুদানজুড়ে এখন যে দুই বাহিনী লড়াই করছে, তারা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন।

ওমর আল-বশির কে?

১৯৮৯ সালে একটি অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসেন ওমর আল-বশির। ১৯৯৩ সালে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সংস্কার করা সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্ষমতার উপর নিজের দখল শক্ত করতে বশির উচ্চাভিলাষী সামরিক অফিসারদের মৃত্যুদণ্ড দেন। এতে বিরোধী দলগুলো নিষিদ্ধ করা হয় ও স্বাধীন সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এমনকি তিনি প্রকাশ্যে ইসলামের একটি জঙ্গি ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছিলেন। ১৯৯০ এর শুরুর দিকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে সুদানে একটি প্রশিক্ষণ শিবির খোলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যদিও আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৯৬ সালে লাদেনকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন বশির।

২০০৩ সালে বশির দারফুরে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তার সরকার জানজাউইদ মিলিশিয়াকে এই অঞ্চলের অ-আরব জনগোষ্ঠীর উপর আক্রমণ করার অনুমতি দেয়। হেমেতির নেতৃত্বে জানজাউইদ পরে আধা-সরকারি আরএসএফ আধাসামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়।

দারফুরে গণহত্যার জন্য ২০০৮ সালে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

বশির আরব লীগে নিজের সমর্থকদের আহ্বান জানিয়ে শ্বেতাঙ্গ ও বর্ণবাদী বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার পক্ষে দাঁড়াতে বলেন।

এরমধ্য দিয়ে তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে সক্ষম হন। কারণ অনেক আফ্রিকান ও আরব দেশ বশিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

এমনকি তার প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা ২০১৪ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ওই তদন্ত বন্ধের আহ্বান জানান।

তবে এখনও বশিরকে আইসিসির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান অব্যাহত রয়েছে।

About

Popular Links