Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশুদের কান্নার প্রতিযোগিতা

সম্প্রতি জাপানের সেনসোজি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী ‘শিশু সুমোদের কান্না’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৪৫ পিএম

শিশুদের কান্না মানেই বাবা-মায়ের বেদনা। কিন্তু জাপানে শিশুদের কান্নার জন্য রীতিমত একটি উৎসবই অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি জাপানের সেনসোজি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী “শিশু সুমোদের কান্না” প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় ৬৪ শিশু অংশ নেয়।

স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, এই সুমো শিশুদের সুস্থতা এনে দিতে পারে।

জাপানি মা-বাবারা মনে করেন, এই অনুষ্ঠানে কাঁদলে তাদের শিশুরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। টোকিওর সেনসোজি মন্দিরে “বেবি সুমোদের কান্না” অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এতে সুমো রিংয়ের মধ্যে মা-বাবাদের কোলে দুই শিশুকে মুখোমুখি রাখা হয়।

অনুষ্ঠানের কর্মীরা দৈত্যের মুখোশ পরে শিশুদের ভয় দেখিয়ে কাঁদানোর চেষ্টা করেন। যে শিশু আগে কেঁদে ফেলবে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করবে সুমো রেফারি।

মন্দিরে নিজের আট মাসের শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন হিসায়ে ওয়াতানাবে নামে এক জাপানি মা।

তিনি বলেন, “শিশুদের কান্নার ধরন শুনেই আমরা তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার শিশুটি হয়তো নার্ভাস হয়ে পড়েছে। এ কারণে সে অনুষ্ঠানে খুব একটা কাঁদেনি।”

আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশন এই বেবি সুমোদের কান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশনের চেয়ারম্যান শিগেমি ফুজি বলেন, “কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, শিশুদের এমনভাবে কাঁদানো ভয়ানক বিষয়। তবে জাপানে, আমরা বিশ্বাস করি, যে শিশু যত জোরালোভাবে কাঁদবে, সে তত সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।”

এই প্রতিযোগিতা ৪০০ বছরের বেশি পুরোনো। অঞ্চলভেদে নিয়মের হেরফের আছে। কয়েকটি জায়গায় মা-বাবারা চান, তাদের সন্তানই যেন প্রথম কাঁদে।

আবার কোনো কোনো এলাকার অভিভাবকেরা মনে করেন, প্রথমে কাঁদলে শিশুর অপ্রাপ্তির আশঙ্কাই বেশি থাকে।

সাগামিহারায় এই কান্নার সুমো ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিশুদের মা-বাবা ও দাদা-দাদিরা উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা দেখেন। প্রথমে তাঁরা শিশুদের একটা বেদিতে নিয়ে যান। সেখানে পুরোহিত ওই শিশুদের “শুদ্ধ” করে দেন। তারপর এক জোড়া শিশুকে সুমোর মঞ্চে নেওয়া হয়। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার আগেই বেশির ভাগ শিশু চিৎকার জুড়ে দেয়।

About

Popular Links