Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় জার্মানিতে সোলার টাইল দিয়ে বানানো হচ্ছে ছাদ

কর্নেলিউস পাউল নামে এক উদ্যোক্তা নতুন ধরনের টাইল উদ্ভাবন করেছেন। এই টাইলটি একই সঙ্গে সোলার মডিউল ও ঘরের ছাদ হিসেবে কাজ করে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩, ০৬:৩৭ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে খানিকটা রক্ষা করতে এবং চলমান জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে জার্মানিতে জনপ্রিয় হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। দেশটির অনেক অঞ্চলে ঘরের চালা সংস্কার করে সৌর বিদ্যুতের টাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আলাদা করে ছাদ দেওয়ার খরচ থাকছে না। আর সরকারি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের।

কর্নেলিউস পাউল নামে এক উদ্যোক্তা নতুন ধরনের টাইল উদ্ভাবন করেছেন। এই টাইলটি একই সঙ্গে সোলার মডিউল ও ঘরের ছাদ হিসেবে কাজ করে।

কর্নেলিউস পাউল বলেন, “আমরা সহজ হিসেব করতে পারি। ছাদের ওপর এক হাজার টাইলের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দশ কিলোওয়াট। জার্মানির কোনো জায়গায় বছরে প্রায় ৯,০০০ কিলোওয়াট আওয়ার, কোথাও বা দশ হাজার কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। অন্য বিষয়টি হলো, প্রায় ২০ বছরে সেই টাইল কেনা ও বসানোর ব্যয় উঠে আসার কথা।”

একটি ভবনে সোলার টাইল বসাতে প্রায় ৪০ হাজার ইউরো ব্যয় হবে। তবে  ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর ব্যয়ের তুলনায় এই খরচ বেশি। এই টাইলটি তৈরি করতে শারীরিক অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি রোবট কাজে লাগিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমতে পারে।

কর্নেলিউস জানান, তার এই উদ্ভাবন পরীক্ষিত। দীর্ঘ সময় তা সুরক্ষা দিতে পারবে। তিনি দামী সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য নিশ্চিত করতে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করেছেন। 

কর্নেলিউস পাউল বলেন, “২০১১ সালে আমরা মাত্র তিন জনকে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। এখন প্রায় ৭০ জন কর্মী সক্রিয় রয়েছেন। গত বছর আমাদের টার্নওভার দ্বিগুণ হয়ে ৫০ লাখ ছুঁয়েছে। চলতি বছর আমরা সেটা পাঁচ বা ছয় গুণ করতে চাই।”

জ্বালানি সঙ্কটের কারণে জার্মানির অনেক বাসার মালিকেরা নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনের তাগিদ অনুভব করছেন। সেই তাগিদকেই বাস্তবে রূপান্তর করেছেন কর্নেলিউস।

বেশি জটিলতা ছাড়াই ভবনে এটি সেট করা যাচ্ছে জানিয়ে কর্নেলিউস বলেন, “ছাদে কয়েকটি জায়গায় গর্ত করে সেখান দিয়ে প্লাস ও মাইনাস কেবেল ঢোকানো হবে। সেই তার কেবেল চ্যানেলের মাধ্যমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে ইনভার্টার রয়েছে।”

তার এই ব্যবসা একসময় ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি। কর্নেলিউস পাউলের ভাষায়, “জার্মানিতে দেড় কোটি এমন বাড়ি রয়েছে, যেখানে একটি বা দুটি পরিবার বাস করে। আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এই বাড়িগুলোর জ্বালানি কাঠামো সংস্কার করতে হবে। বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ছাদের সংস্কার প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ ২০ থেকে ৩০ কোটি সোলার টাইল সেখানে লাগানোর সম্ভবনা তৈরি হচ্ছে। আমরা সেই ধরনের কাজের মাধ্যমে সে ক্ষেত্রে অবদান রাখার আশা করছি।”

About

Popular Links