Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘জনবলের অভাবে’ চীনের এক-তৃতীয়াংশ কারখানা হুমকির মুখে

কারখানাগুলো হুমকির মুখে থাকার অন্যতম কারণ নতুন কর্মীর অভাব এবং বর্তমান কর্মীদের বয়স বেড়ে যাওয়া৷ এছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩, ০৯:৩৮ পিএম

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন। অর্থনৈতিকভাবে এর বড় সুবিধা পেয়ে আসছে দেশটি। “এক সন্তান নীতির” কারণে গত বছর তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যা কমেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ছে না জন্মহারও। আর এতেই দেশটির অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কারখানা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির গবেষকেরা৷ এর দুটি কারণের কথা বলছেন তারা৷ প্রথমত, নতুন কর্মীর অভাব এবং বর্তমান কর্মীদের বয়স বেড়ে যাওয়া৷ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকা চীনা তরুণেরা তাদের পড়াশোনার চেয়ে নিচু স্তরের চাকরি করতে রাজি থাকলেও কারখানায় চাকরি করতে রাজি নয়৷ তাই নতুন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না৷

আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া৷

১৯৭৬ সালে মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর কয়েক দশকের মধ্যে চীনে অনেক কারখানা গড়ে ওঠে৷ সেগুলোই চীনের প্রবৃদ্ধির কারণ ছিল৷ এসব কারখানার মালিকদের বয়স এখন ৫০-এর উপরে৷ আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের জানাশোনা কম থাকায় তারা উৎপাদন কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন৷ তবে তাদের মধ্যে যাদের ছেলেমেয়ে প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন তারা এখন বাবা-মার কারখানায় প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন৷ এই তরুণদের বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ী৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন আট তরুণের সঙ্গে কথা বলেছে৷ তাদের সঙ্গে কথা বলে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেছে রয়টার্স৷ ওই তরুণেরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা কোম্পানিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছেন৷

আট তরুণের মধ্যে একজন ৩০ বছর বয়সি ঝাং জেকিং৷ তিনি চীনের রুইচাং শহরের একটি ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা৷ তার বাবা-মা কোম্পানিটির মালিক৷ তাদের বয়স ৫০-এর উপর হয়ে যাওয়ায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোম্পানিতে কাজ করছেন তিনি৷ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাবা-মাকে বুঝিয়ে উৎপাদন খাতে নানা প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন৷ এতে বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫% বেড়েছে বলে দাবি করছেন জেকিং৷

“শেনজেন রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ হাই-কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড নিউ স্ট্রাকচারের'” গবেষণা সহকারী ঝাং ঝিপেং বলছেন, ৪৫ হাজার থেকে প্রায় এক লাখ তরুণ চীনের বেসরকারি মালিকাধীন কারখানাগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের দায়িত্ব নেওয়ার বিভিন্ন স্তরে আছেন৷

চীনা সরকারি থিংক ট্যাংক “সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনোভেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের” ম্যানুফ্যাকচারিং আপগ্রেড বিষয়ের বিশেষজ্ঞ তিয়ান ওয়াইহুয়া বলছেন, “উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায়, পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে অল্প পারিশ্রমিকে কর্মী পাওয়া যাওয়ায় চীনের উৎপাদকরা এখন বিপুল প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছে৷ এই অবস্থায় বাবা-মার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ও বাইরের অভিজ্ঞতা থাকা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে৷”

তবে তিনি মনে করছেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে টিকে থাকা যাবে না৷ নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবনও করতে হবে।

About

Popular Links