Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রথমবারের মতো সামনে এসে মায়ের মুক্তি চাইলেন সু চির ছেলে

কিম অ্যারিস বলেন, আমি আমার মাকে এভাবে জেলে পড়ে থাকতে দিতে পারি না

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার ছোট ছেলে কিম আ্যারিস। এজন্য জোরালো পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সম্প্রতি বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন আ্যারিস। এটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তার দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকার। এর আগে ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর আটক ছিলেন সু চি। তখন অ্যারিস এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

কিম অ্যারিস বলেন, “আমি আমার মাকে এভাবে জেলে পড়ে থাকতে দিতে পারি না।' 

ব্রিটিশ নাগরিক কিম জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তার মায়ের সম্পর্কে তাকে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে তাকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থা যেকোনো ধরণের সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি বলেন, “এর আগে আমি সংবাদমাধ্যমে তেমন কিছু বলিনি। কেননা, মা কখনোই চাননি আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই।'

২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ধারাবাহিক বিচারে ৩৩ বছরের সাজা দেওয়া হয় সু চি”কে। তখন থেকেই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ, প্রাণ হারিয়েছে হাজারো মানুষ।

অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহবন্দি ছিলেন সু চি। ২০২২ সালে রাজধানী নেপিদো”র একটি কারাগারে তাকে স্থানান্তর করা হয়। এই ২ বছরে তাকে নিয়ে কোনো খবরও সামনে আসতে দেয়নি জান্তা সরকার। মাঝখানে কিছুদিন তার অসুস্থতার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃত জানিয়েছিল দেশটির সেনা সরকার।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী সু চি হয়ে উঠেছিলেন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের অন্যতম আইকন। ২০১০ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় সেই ঘটনা। তবে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি।

সেনা অভ্যুত্থানের আগের এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান কিম আরিস। বরং বর্তমানে সু চি”র দুর্দশার বিষয়ে আলোচনায় মনোযোগ দেন তিনি।

১৯৮৮ সালের আগপর্যন্ত ব্রিটিশ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকতেন সু চি। ১৯৮৮ সালে অসুস্থ মায়ের সেবা করার জন্য মিয়ানমারে ফেরেন তিনি। তখন থেকে এ পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় সু চির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটিয়েছেন অ্যারিস ও তার ভাই।

মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সানের মেয়ে সু চি মিয়ানমারে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন শুরু করেন এবং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নামের দলটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৯ সালে তাকে গৃহবন্দী করা হয়।

১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তা নিতে যেতে পারেননি সু চি। আশঙ্কা ছিল, একবার মিয়ানমার ছাড়লে আর ফিরতে পারবেন না। অ্যারিসের বয়স তখন ১৪ বছর। তিনিই তখন মায়ের পক্ষে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীকেও দেখতে যেতে পারেননি সু চি। ১৯৯৯ সালে তার স্বামী মারা যান।

অবশেষে ২০১০ সালে সু চি মুক্তি পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে অ্যারিসের দেখা হয়। তখন তিনি মাকে উপহার হিসেবে ইয়াঙ্গুনের বাজার থেকে কেনা একটি কুকুরছানা দিয়েছিলেন।

About

Popular Links