Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বজন-বন্ধুদের নিয়ে মহা ধুমধামে বিয়ে করলেন ভারতীয় সমকামী যুগল

আট বছর আগে অনলাইন ডেটিং অ্যাপে তাদের পরিচয়। তাদের একজন বাঙালি, অন্যজন পাঞ্জাবি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২৯ পিএম


ভারতের হায়দ্রাবাদে প্রথমবারের মতো এক সমকামী দম্পতি সাত পাঁকে বাধা পড়েছেন।

দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) তেলেঙ্গানা রাজ্যে অনুষ্ঠিত এ বিয়েটি হয়তো দেশটির প্রথম আনুষ্ঠানিক সমকামী বিয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভয় ডাঙ্গে (৩৪) এবং সুপ্রিয় চক্রবর্তী (৩১) তাদের পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। তারা গত আট বছরের প্রেমের পরিণয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা।

তবে, ভারতে আইনের অধীনে সমকামী দম্পতিরা তাদের বিয়ে নিবন্ধন করতে পারে না। এর আগে ২০১৮ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতা “অপরাধমূলক” নয় বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া’র তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিয় চক্রবর্তী এবং অভয় ডাঙ্গে ১৮ ডিসেম্বর একটি “প্রতিশ্রুতি অনুষ্ঠানে” প্রতিজ্ঞা করে আংটি বদল করেছেন। হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি এবং বাঙালি উভয় ঐতিহ্য মেনেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা।

জানা গেছে, বিয়ের আগে মেহেদি, হলুদ এবং সঙ্গীতের অনুষ্ঠানও করেছেন তারা।

নবদম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আট বছর আগে একটি “ডেটিং অ্যাপে”র মাধ্যেমে প্রথম দেখা হয়েছিল তাদের। অভয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার এক মাস পর সুপ্রিয় তাকে তার মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে সুপ্রিয় জানান, আমার মা প্রথমে অবাক হলেও কয়েক দিন সময় নিয়েছিলেন। তারপর আমাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

“হিউম্যানস অব হায়দ্রাবাদ” নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি জনপ্রিয় পেজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, আমাদের বাবা-মা খুশি হয়েছিলেন আমরা শুরু থেকেই তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি। আর তারাও আমাদের সম্পর্ককে সব সময় সমর্থন করেছেন।

“সমকামী পুরুষ হিসেবে সমাজের কাছে স্বীকৃত হওয়ার যাত্রাটি আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল না। আপনি একবার সমালোচনা বেরিয়ে এলে তারা আপনাকে গ্রহণ করে নেবে। এতেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে আর বাধা পেড়িয়ে আসা সহজ হয়ে যাবে,” সুপ্রিয় বলেন।

সুপ্রিয় জানান, “অভয়কে স্বামী হিসেবে পেয়ে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। প্রিয়জনদের বিষয়টি মেনে নেওয়া, তাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ।”

About

Popular Links