Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউনিসেফ: বিশ্বে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় সুবিধাবঞ্চিত

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০১:০৫ এএম

ইউনিসেফের একটি নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী শিশুদের সংখ্যা প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বা ২৪ কোটি বলে ধারণা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় বেশি সুবিধাবঞ্চিত।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, “এই নতুন গবেষণাটি নিশ্চিত করেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের তাদের অধিকার আদায়ে জীবনে একাধিকবার এবং প্রায়ই জটিল বাধার সম্মুখীন হতে হয়।” 

ফোর বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাড়িতে পড়াশোনা করা পর্যন্ত; প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রায় প্রতিটি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বা তাদের কথা শোনার সম্ভাবনা কম। প্রায়ই, প্রতিবন্ধী শিশুদের পিছনে ফেলে দেওয়া হয়।” 

প্রতিবেদনে ৪২টি দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে শিশুর সুস্থতার ৬০টিরও বেশি সূচক রয়েছে। যার মধ্যে- পুষ্টি ও স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সহিংসতা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি রয়েছে।

এই সূচকগুলোকে কার্যকরী অসুবিধার ধরন, তীব্রতা, শিশুর লিঙ্গ, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং দেশভেদে আলাদা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।

স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতিবন্ধী শিশুদের-

১. প্রাথমিক উদ্দীপনা এবং প্রতিক্রিয়াশীল যত্ন পাওয়ার সম্ভাবনা ২৪% কম।

২. প্রাথমিক শিক্ষা এবং সংখ্যাগত দক্ষতার সম্ভাবনা কম ৪২% কম।

৩. ২৫% ক্ষেত্রেই জীবনের বেশিরভাগ সময় কোনো কার্যক্রমে যুক্ত না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. ৩৪% ক্ষেত্রে তাদের ঠিকমতো বাড়তে দেওয়া হয় না।

৫. ৫৩%-এর বেশি শিশুদের তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের লক্ষণ আছে।

৬. ৪৯%-এর বেশি শিশুরা সম্ভবত স্কুলেই যায়নি। এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আর পড়াশোনা করেনি, ৪৭%-এর বেশি শিশু, নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরে ঝরে পড়েছে ৩৩% বেশি শিশু এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পর ঝরে পড়েছে ২৭%-এর বেশি শিশু।

৭. ৫১%-এর বেশি প্রতিবন্ধী শিশু নিজেকে এবং ৪১% বৈষম্যের শিকার মনে করে।

৮. এবং ৩২% শিশুর গুরুতর শারীরিক শাস্তি ভোগ করার সম্ভাবনা বেশি।

তবে, এই অক্ষমতার অভিজ্ঞতা একেক জনের ক্ষেত্রে আলাদা। অক্ষমতার ধরন, শিশুটি কোথায় থাকে এবং তারা কোন সেবাগুলো পাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি এবং ফলাফলের একটি তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকার মাধ্যমে বৈষম্য মোকাবিলায় কার্যকরী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

প্রতিবেদনে পরীক্ষা করা বেশ কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে শিক্ষা একটি। শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে ব্যাপক চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী শিশুরা এখনও শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।

যেসব শিশুদের যোগাযোগ করতে এবং নিজেদের যত্ন নিতে অসুবিধা হয়, তারা শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে পড়ে।

বুলগেরিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য ইউনিসেফের ইয়ুথ অ্যাডভোকেট মারিয়া আলেকজান্দ্রোভা (২০) বলেন, “অন্তর্ভুক্ত শিক্ষাকে বিলাসিতা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অনেক দিন ধরে, প্রতিবন্ধী শিশুদের এমনভাবে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যেটা কোনো শিশুর বেলায়ই হওয়া উচিত নয়। একজন প্রতিবন্ধী নারী আমার জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা এই বক্তব্যকেই সমর্থন করে।”

তিনি বলেন, “কোনো শিশুকে বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যারা, তাদের মৌলিক মানবাধিকারের জন্য একা লড়াই করতে হচ্ছে এটা ঠিক না। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, স্টেকহোল্ডার এবং এনজিওর সহায়তা প্রয়োজন।”

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবন্ধী শিশুদের সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। যখন আমরা এই শিশুদের গণনা করতে, বিবেচনা করতে এবং তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে ব্যর্থ হই, তখনই আমরা তাদের বিশাল সম্ভাবনার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছি।”

About

Popular Links