Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতীয় বাহিনীর হাতে কাশ্মীরের অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার

৪২ বছর বয়সী পারভেজ কাশ্মীরের সুপরিচিত অধিকার সংগঠন ‘জম্মু কাশ্মীর কোয়ালিশন অব সিভিল সোসাইটি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এবং ‘এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেসে’র চেয়ারপারসন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০২ এএম

কাশ্মীরের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী খুররম পারভেজকে ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত সংস্থা গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী।

সোমবার (২২ নভেম্বর) ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) কর্মীরা শ্রীনগরের প্রধান শহর থেকে খুররম পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে বলে পারভেজের স্ত্রী সামিনা এএফপিকে জানিয়েছেন।

সামিনা বলেন, “সোমবার বাড়িতে এবং অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পারভেজের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ কিছু বই বাজেয়াপ্ত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা বলেছে এটি সন্ত্রাস অর্থায়নের একটি মামলা।”

২ বছর বয়সী পারভেজ কাশ্মীরের সুপরিচিত অধিকার সংগঠন “জম্মু-কাশ্মীর কোয়ালিশন অব সিভিল সোসাইটির (জেকেসিসিএস) প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী এবং এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেসের (এএফএডি) চেয়ারপারসন।”

এ বিষয়ে এনআইএ কোনো বিবৃতি না দিলেও বার্তা সংস্থা এএফপি একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ছবি প্রকাশ করেছে যেখানে, পারভেজকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) বিভিন্ন ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানবাধিকার রক্ষাকারীদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মেরি ললর এক টুইট বার্তায় বলেছেন, “আমি শুনেছি, খুররম পারভেজকে আজ কাশ্মীরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফাঁসানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি কোনো সন্ত্রাসী নন বরং একজন মানবাধিকার রক্ষাকারী।”

এনআইএ কর্মকর্তারা ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেকেসিসিএস অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে বলে জানায় এএফপি।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও পারভেজের বাড়িতে ও অফিসে অভিযান চালিয়ে তার গবেষণা সামগ্রী, ফোন এবং কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করেছিল এনআইএ।

প্রসঙ্গত, পারভেজের এই অধিকার গোষ্ঠীটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জম্মু-কাশ্মীরে সহিংসতা নিরীক্ষণ করছে। তারা এ পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিবেদনে নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অচিহ্নিত গণকবরসহ ভারতীয় সরকারি বাহিনীর দ্বারা অধিকার লঙ্ঘনের কথা প্রকাশ করে আসছে।

গত সপ্তাহেও, শ্রীনগরে কথিত বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধের সময় বেসামরিক লোকদের হত্যার পর ভারতীয় পুলিশ তাদের মরদেহগুলো দূরবর্তী কবরস্থানে দাফন করে দেওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছিল জেকেসিসিএস।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিবার প্রতিবাদ করায় কর্তৃপক্ষ দুটি লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, ইউএপিএর অধীনে অন্তট ২ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি একটি অস্পষ্ট আইন যা কার্যকরভাবে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচার ছাড়াই আটকে রাখার অনুমতি দেয়। ২০২৯ সাল থেকে কার্যকর এই আইনের অধীনে এখন পর্যন্ত গেপ্তার হওয়া অর্ধেকই এখনও কারাগারে এবং এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ঘটনা খুবই বিরল।

About

Popular Links