Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নামাজের জায়গা নেই: ভারতের গুরগাঁওয়ে চাপের মুখে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মুসলিমদের মসজিদে গোবর ছিটিয়েছে এমনকি তাদেরকে পাকিস্তানি বলেও অভিহিত করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারও অনুমোদিত মসজিদের বাইরের স্থানগুলোর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে হ্রাস করেছে যেন মুসলিমরা বাইরে নামাজ পড়তে না পারেন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৪ এএম

“মুসলমানরা যেখানে সেখানে প্রার্থনা করে দেশে এবং সমগ্র বিশ্বে সমস্যার সৃষ্টি করে,” বলছিলেন বছর চল্লিশের দীনেশ ভারতী। কপালে লাল তিলক দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের একজন ধর্মপ্রাণ সদস্য তিনি। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে গুরগাঁওয়ে ঘরের বাইরে প্রার্থনারত মুসলমানদের হেনস্থা ও হয়রানি করছিলেন।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসায়, ভারতকে একটি হিন্দু জাতি হিসেবে এবং ২০ কোটি মুসলিম সংখ্যালঘুকে সম্ভাব্য বিপদজনক বহিরাগত হিসেবে প্রমাণ করতে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়েছে।

ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের অধীনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সর্বশেষ ফ্ল্যাশ পয়েন্ট গুরগাঁও। রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আধুনিক উপগ্রহ শহর গুরগাঁও-এ প্রায় ৫ লাখ মুসলমানের বাস। শহরটিতে মুসলিমদের জন্য ১৫টি মসজিদ রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় সরকার নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও হিন্দুদের মন্দিরের সংখ্যা বেড়েছে। যার ফলে শুক্রবার জুম্মার নামাজ খোলা স্থানে আদায় করতে বাধ্য হয়েছেন গুরগাঁওয়ের মুসলিম জনগণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মুসলিমদের মসজিদে গোবর ছিটিয়েছে এমনকি তাদেরকে পাকিস্তানি বলেও অভিহিত করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারও অনুমোদিত মসজিদের বাইরের স্থানগুলোর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে হ্রাস করেছে যেন মুসলিমরা বাইরে নামাজ পড়তে না পারেন।

এ মাসের শুরুতে, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য এবং হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গুরগাঁওয়ের বাইরের প্রার্থনা “আর সহ্য করা হবে না”। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের শতাধিক মুসলমান এখনও টিকে থাকা ছয়টি প্রার্থনা স্থানের মধ্যে একটিতে পালাক্রমে উপাসনার জন্য জড়ো হন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দক্ষিণপন্থী একটি হিন্দু গোষ্ঠীর সমাবেশের ভিডিও-তে দেখা যায়, কিছু প্রতিনিধি মুসলমানদের হত্যা করার আহ্বান জানাচ্ছেন। গুরগাঁওয়ের হিন্দু বিক্ষোভকারীরা বলছেন, “বাইরে নামাজ পড়লে সেটি ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’, ট্র্যাফিক সমস্যা এবং শিশুদের ক্রিকেট খেলতে বাধার সৃষ্টি করে।”

কিন্তু সমালোচকদের মতে, আসল কারণ মোদির নতুন অসহিষ্ণু ভারতে মুসলমানদের কোনো স্থান নেই, যেখানে হিন্দু উগ্রবাদীরা সরকারি নীতি নির্ধারণ করছে।

রাজনৈতিক ভাষ্যকার আরতি আর জেরাথ বলেন, “ভারতকে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ থেকে একটি হিন্দু দেশে রূপান্তর করার একটি এজেন্ডা রয়েছে।” জেরাথ এএফপিকে বলেন, “অর্থনৈতিক জায়গা হোক বা উপাসনার জন্য জায়গা, খাবার হোক বা রীতিনীতির জায়গা হোক, মুসলিম পরিচয়ের যে কোনো কিছু এই প্রকল্পের অংশ হতে চলেছে।”

তিনি বলেন, “এটি সরকারের কোনো প্রকল্প নয়, তবে অবশ্যই এই সরকারের সমর্থকদের দ্বারা তৈরি একটি প্রকল্প, যারা সরকারের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পান।”

এদিকে, রবিবার যুক্ত সংঘর্ষ সমিতির চেয়ারম্যান মহাবীর ভরদ্বাজ এ বিষয়ে একটি সমাধান প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, “মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করা উচিত। তাদের প্রার্থনা করার জন্য তাদের মন্দির থাকবে, ফলে বাইরে নামাজ পড়ার সমস্যাও শেষ হয়ে যাবে।”

About

Popular Links