Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দাউদ ইব্রাহিমের ডেরায় ঢুকে সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন যে নারী সাংবাদিক

শিলাকে বিশ্বাস করতেন দাউদ। তাই একাধিকবার তাকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩, ০৮:৩৫ পিএম

দাউদ ইব্রাহিম। যাকে খুঁজতে হয়রান বিশ্বের বহু দেশের পুলিশ। কিন্তু তার টিকিও ছুঁতে পারছে না কেউ। যে কয়টা ছবি পাওয়া যায় সেসবও বেশ পুরনো। তার খোঁজ নিয়ে কিছুদিন পরপরই শোরগোল ওঠে ভারতসহ অনেক দেশের সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক ও অপরাধ অঙ্গনে। 

এমন “মোস্ট ওয়ান্টেড” ডনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ভারতীয় এক নারী সাংবাদিক। তাও একবার নয়, একাধিকবার তিনি এই ডনের অফিসে গেছেন, তার সঙ্গে আলাপ করেছেন লম্বা সময়।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণের মূলহোতা ছিলেন দাউদ। সে হামলায় ২৫৮ জন প্রাণ হারান। আহত হন প্রায় ৭০০ জন। এরপরই ভারতের “মোস্ট ওয়ান্টেড” তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন তিনি। ২০১৫ সালে ফোর্বেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ডন হচ্ছেন দাউদ। কলোম্বিয়ার ড্রাগ গড পাবলো এসকোবারের পরই তার অবস্থান। ফোর্বসের হিসেবে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পাবলোর মোট আয় ছিল ৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার। যদিও এসকোবার ১৯৯৩ সালে মারা যান। 

সে হিসেবে দাউদ বিশ্বের জীবিত মাফিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী।

এই ডনের সঙ্গে ১৯৮৮ সালে তোলা একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন চার দশক ধরে ভারতে সাংবাদিকতা করে আসা শিলা ভাট।এনডিটিভি জানায়, দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে শিলা ভাটের যখন সাক্ষাৎ হয় তখনও ডন হিসেবে হাত পাকাননি তিনি। ওই সময় ভারত ও দুবাইয়ে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। এর আগেও ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে মুম্বাইয়ের মাফিয়া ডন করিম লালার সঙ্গে চিত্রলেখা ম্যাগাজিনে ভাটের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত ওই ছবি দেখেই ভাটের প্রতি আগ্রহী হন দাউদ।

দাউদ নিজের কার্যালয়ে শিলা ভাটকে ডেকেছিলেন। ওই সময় লালার সহযোগীরা মুম্বাইয়ের মোহাম্মদ আলি রোডে একটি সরকারি রিমান্ড হোমে মেয়েদের হয়রানি করছিল, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে ভাটকে নিজের ডেকেছিলেন তিনি।

দাউদ শিলা ভাটকে ফোন করে বলেছিলেন, “আপনি করিম লালার সঙ্গে দেখা করেছেন। আপনি দয়া করে লিখুন, তার লোকেরা কীভাবে মেয়েদের হয়রানি করছে।”

ওই সময় (১৯৮১-৮২) দাউদের উত্থানপর্ব চলছিল। যার সঙ্গে মারোয়ারি, সিন্ধি, পাঞ্জাবিরা কাজ করতো। আর তিনি ছোটখাটো অপরাধ করে বেড়াতেন।

দাউদের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ডনের ডেরায় চলে যান শিলা ভাট।

এই সাংবাদিক সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, “প্রথমে তারা আমাদের জেল রোড (মুম্বাই) এর কাছে ট্যাঙ্কার স্ট্রিটে ডেকেছিল। তারপরে তারা আমাদের টিন্টেড জানালা দিয়ে একটি গাড়িতে করে পাকমোদিয়া স্ট্রিটে নিয়ে যায়, যেটা আমি আগেই চিনতাম।”

তিনি আরও বলেন, “তারপর আমাদের সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতের সময় আমি, আমার স্বামী, দাউদ ও ছোট শাকিল (দাউদের সহযোগী) সেখানে উপস্থিত ছিলেন।”

শিলা ভাট বলেন, “তিনি ছোটখাটো কথা বলছিলেন। তিনি একটাই বলতে চেয়েছিলেন করিম লালা একজন খারাপ মানুষ।”

সাক্ষাতকারের কয়েক বছর পরে বরোদা জেলে দাউদের সঙ্গে শিলা ভাটের ফের দেখা হয়।

সেসময় শিলা ভাট বোম্বেতে (বর্তমানে মুম্বাই) থাকতেন, তবে কাজের জন্য গুজরাটে যেতে হতো তাকে।

সেখান থেকেই তিনি বরোদা জেল পরিদর্শনে যান ও দাউদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান। জেলে গিয়ে শিলা দেখতে পান দাউদ ফুটবল খেলছেন।

শিলা ভাট বলেন, “দাউদ বলেছিলেন তিনি আলমজেবকে (যিনি মুম্বাইতে করিম লালার ব্যবসা পরিচালনা করতেন) ছাড়বেন না। আমি এটি সম্পর্কে লিখেছিলাম। এটি সত্য হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুদিন পরেই আলমজেব খুন হন।”

এরপরের ২-৩ বছর দাউদ ও শিলা ভাটের আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। ১৯৮৭ সালে দুবাই থেকে দাউদ আবারও শিলা ভাটকে ফোন করেন।

বেশ কয়েকবার কথা হয় তাদের। এরপর দুজনের সাক্ষাতের দিন নির্ধারণ হয়। ১৯৮৮ সালে মাদক ব্যবসার বিষয়ে দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দুবাইয়ে যান শিলা। তবে প্রথম দিন দেখা হয়নি তাদের।

এই সাংবাদিকের কথায়, “দেখা না হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ হয়। শুধু দেখা না হওয়াই নয়। বরং প্রায় ৩,৫০০ টাকা খরচ করে গিয়েও কাজ না হওয়ায় খারাপ লাগছিল। যদিও একদিন পরেই তার দাউদের সঙ্গে দেখা হয়।”

শীলা ভাটের ডায়রি/ সংগৃহীত

প্রথম দিন শিলার সঙ্গে দেখা হয় দাউদের সহযোগী জর্নাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে, ছোট রাজন, ভারদারাজন মুদালিয়ার, ইউসুফ প্যাটেলের সঙ্গে। তারা সবাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর সব ব্যক্তি।

ওই সময় তাকে কেউ সাক্ষাৎকার নিতে প্রলুব্ধ করেছে কি-না এমন প্রশ্নও করেছিল দাউদের সহযোগীরা।

যাই হোক পরেরদিন দাউদের সঙ্গে দেখা হলে শুরুতেই শিলাকে তিনি একসঙ্গে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। একদিন পর আবারও তাদের দেখা হয়। ওইদিন শিলার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয় তার। তবে সেদিনও সাক্ষাৎকার নিতে পারেননি শিলা।

তৃতীয় দিনে দাউদ সাক্ষাৎকার দেন। তবে সেটি রেকর্ডের অনুমতি দেননি তিনি।

শিলা বলেন, “তিনি আমার ডায়েরি হাতে নিয়ে দেখেন। তারপর আলমজেবসহ যে তিনটি খুনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন তার কথা বললেন।”

দাউদ বলেন, “আমি যদি ওকে না মেরে ফেলতাম, সে আমাকে মেরে ফেলত। আপনি আমাকে বলুন শিলা, আমার কি ওকে না মেরে উপায় ছিল?”

জবাবে শিলা অবশ্য কিছুই বলেননি। পরবর্তীতে সাক্ষাৎকারের পুরো কথাই তিনি লিখেছিলেন।

দাউদের অগাধ বিশ্বাস ছিল শিলা ভাট তার কোনো কথা বানিয়ে বা ভিন্ন অর্থ করে লেখবেন না। শিলাকে দাউদ জানিয়েছিলেন, “তার বিশ্বাস ছিল তিনি যেমন বলেছেন, শিলা ঠিক তেমনই লিখবেন।”

২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ভারত সফর করেন। ওই সময় তিনি শিলা ভাটকে ফুলন দেবীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

About

Popular Links