Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রেস্ট আয়রনিং: লন্ডনে আদিম নির্যাতনের শিকার ২০ কিশোরী

পুরুষদের যৌন লালসা থেকে কিশোরী সন্তানদের বাঁচাতেই মায়েরা এই নির্যাতনের ভেতর দিয়ে নিয়ে যান নিজেদের কন্যা সন্তানদের

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:২৬ পিএম

চেস্ট আইরোনিং। পুরুষদের যৌন নির্যাতন থেকে নিজেদের কন্যা সন্তানদের বাঁচাবে এই পদ্ধতি। তাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মায়েরা নিজেই নিজেদের কিশোরী সন্তানদের স্তনের উপর গরম ছ্যাঁকা দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি দক্ষিণ লন্ডনে এমনই এক লোমহর্ষক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১৫ থেকে ২০ জন কিশোরীকে এ ভাবেই ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক সমাজকর্মী। 

শুধুমাত্র পুরুষদের যৌন লালসা থেকে কিশোরী সন্তানদের বাঁচাতেই মায়েরা এই নির্যাতনের ভেতর দিয়ে নিয়ে যান নিজেদের কন্যা সন্তানদের। এই পদ্ধতির নাম 'চেস্ট আইরনিং'।

এই প্রথার প্রথম প্রচলন হয় মূলত আফ্রিকার ক্যামেরুনে। ক্যামেরুনের পুরুষশাসিত সমাজের প্রচলিত ধারণা ছিল, মেয়েদের স্তনের বৃদ্ধি শুরু হওয়া মানেই তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। অনেক সময় জোর করে বিয়েও দিয়ে দেওয়া হত তাদের। আর এমন পরিস্থিতি রুখতেই এই উপায় বের করেন মায়েরা। ক্যামেরুনে শুরু হওয়া এই প্রথা ক্রমশ আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। আর বর্তমানে লন্ডনেও মিলেছে এই প্রথার প্রচলনের প্রমাণ।

এই প্রথা পালন করার পেছনে মায়েদের ধারণা, এর ফলে তাদের কন্যা সন্তানরা পুরুষদের যৌন নির্যাতন থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারবে। ধর্ষিত হতে হবে না তাদের। কিন্তু কিশোরী সন্তানদের এক মরণ যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিতে গিয়ে তাদের যে আরও ভয়ংকর যন্ত্রণা, আরও বেশি ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেটা অবশ্য বুঝছেন না তারা। 

কী ভাবে করা হয় এই চেস্ট আইরনিং?

প্রথমে পাথরের টুকরো খুব গরম করে নেন মা-চাচি-দাদিরা। পাথরের বদলে উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এমন যে কোনও ধাতব জিনিস দিয়েও এটা করা হয়ে থাকে। তার পর সেই পাথরের টুকরা কিশোরীর স্তনের উপর রাখা হয়। ছাতির উপর সেই পাথরের টুকরো দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়। পাথরের টুকরো ঠাণ্ডা হয়ে এলে সেটি গরম করে একই পদ্ধতিতে আবার স্তনে ছ্যাঁকা দেয়া হয়।

এ ভাবে বারবার গরম ছ্যাঁকা দিতে থাকলে স্তনের কোষগুলো ভেঙে যায়। ফলে কোষের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। এক জন কিশোরী উপর সপ্তাহে এভাবেই একবার বা দু’বার বা প্রয়োজনে তিন বারও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

বলা বাহুল্য, এই পদ্ধতি প্রবল যন্ত্রণাদায়ক। 'ফ্ল্যাট চেস্ট' বানাতে গিয়ে এবং মেয়েদের যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো সন্তানের ক্ষতিই করছেন মায়েরা, জানান মার্গারেট নামের এক সমাজকর্মী। তিনি জানান, এর ফলে স্তন্যপান করানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে মেয়েরা, সম্ভাবনা থাকে সংক্রমণ হওয়ার, এমনকি হতে পারে ক্যানসারও। 

ব্রিটিশ সরকার সম্পূর্ণভাবে এই প্রথা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সমাজকর্মীদের দাবি, এখনও গোপনে এই প্রথার চল রয়েছে ব্রিটেনে।

About

Popular Links