Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইস্পাত উৎপাদনের চেষ্টায় নরওয়ের কোম্পানি

বিশ্বে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর নির্গমনের প্রায় ৬%-এর উৎস ইস্পাত উৎপাদন

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৫০ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে যানবাহন বা বাড়িঘর পরিবেশবান্ধব করার অনেক উদ্যোগ চলছে। কিন্তু ইস্পাত উৎপাদনের মতো মহাযজ্ঞে বিশাল পরিমাণ কার্বন নির্গমন এড়ানো সহজ নয়। নরওয়ের এক কোম্পানি সেই অসাধ্য সাধন করার পথে এগোচ্ছে।

সুইডেনের উত্তরাঞ্চলে সুমেরু বৃত্তের দক্ষিণে বাল্টিক সাগর উপকূলে এসএসএবি কোম্পানির ইস্পাত কারখানা অবস্থিত। কারখানার ব্লাস্ট ফার্নেস এককালে কোম্পানির গর্বের বিষয় ছিল। সেখানে প্রথাগত পদ্ধতিতে ইস্পাত উৎপাদন করা হয়। সেখানে দিনে ৬,০০০ টন ইস্পাত উৎপাদন করা হয়। কয়লা ব্যবহার করে ব্লাস্ট ফার্নেস চালানো হয়।

ইস্পাত উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতিতে বিশাল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন করা হয়। বিশেষ করে ব্লাস্ট ফার্নেসে সবচেয়ে বেশি নির্গমন ঘটে। কারণ কয়লা জ্বালিয়ে ১,৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় লোহা আকরিক গরম করা হয়।

কোম্পানিটি এবার সেক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গোটা বিশ্বে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর নির্গমনের প্রায় ৬%-এর উৎস ইস্পাত উৎপাদন।

এসএসএবি কোম্পানির মুখপাত্র লটা ইয়াকবসন বলেন, “লোহা আকরিক ও কয়লা ব্যবহার করে ইস্পাত উৎপাদনের সময় আমরা অবশ্যই কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন ঘটাই। সে কারণেই আমরা ব্লাস্ট ফার্নেস সরিয়ে ‘হাইব্রিড’ প্রক্রিয়া চালু করতে চাই।”

ব্লাস্ট ফার্নেসের কাছে একটি পরীক্ষামূলক কারখানা তৈরি করা হয়েছে। গোটা বিশ্বে এই প্রথম পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় তৈরি হাইড্রোজেন কাজে লাগিয়ে ইস্পাত উৎপাদনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। একটি জায়গায় ইস্পাত উৎপাদনের আগের পর্যায়ের পণ্য হিসেবে ছোট পেলেট মজুত করা হয়। লোহা আকরিক থেকেই সেগুলো পাওয়া যায়। এক রোটারি ফার্নেসে লোহা আকরিকের পাথর পেলেটে রূপান্তরিত করা হয়।

অন্য একটি প্রক্রিয়ায় পেলেটে লোহার মাত্রা আরও একবার বাড়ানো হয়। সেই লক্ষ্যে হাইড্রোজেনের সাহায্যে পেলেট গরম করে গলিয়ে দেওয়া হয়।

ভাটেনফাল কোম্পানির মিকায়েল নর্ডলান্ডার বলেন, “আমরা এখানে এমন এক প্রযুক্তি পরীক্ষা করছি, যা ব্লাস্ট ফার্নেসের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। ব্লাস্ট ফার্নেসে কয়লা ব্যবহার করা হয়। আর আমরা এখানে হাইড্রোজেনের সাহায্যে লোহা আকরিক থেকে বিশুদ্ধ লোহা বের করি।”

কোম্পানির গোপনীয়তার কারণে সেই প্রক্রিয়ার ছবি তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু এভাবে সেই প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেওয়া যায়। সবার আগে পরিবেশবান্ধব “গ্রিন হাইড্রোজেন” উৎপাদন করা হয়। সেই লক্ষ্যে বায়ু বা সৌরশক্তির মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি কাজে লাগানো হয়। ইলেকট্রোলিসিস প্রক্রিয়ায় পানি বিভক্ত করা হয়। তখন অক্সিজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপায়ে হাইড্রোজেনও সৃষ্টি হয়।

সেই হাইড্রোজেন হাইব্রিড ফার্নেসে চালনা করা হয় এবং লোহা আকরিকের পেলেটে লোহার মাত্রা আরও বাড়ানোর কাজে লাগানো হয়। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসে তরল ইস্পাত সৃষ্টি হয়। এ উদ্যোগ সফল হলে শিল্পজগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং নতুন যুগের সূচনা ঘটাবে।

ইস্পাত কারখানায় পুরোপুরি এই নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি বিদ্যুতের মাধ্যমে সব কাজ করা হবে। সব ফার্নেস ও নতুন রোলিং মিল বিদ্যুতে চলবে।

কয়েক বছরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। নতুন এই প্রযুক্তি অনেক পরিমাণ সিওটু নির্গমন কমাবে। তাছাড়া সবকিছু আরও দ্রুত ঘটবে।

লটা ইয়াকবসন বলেন, “লোহা আকরিক গলানো, ইলেকট্রিক আর্ক ওভেনে স্পঞ্জ আয়রন হয়ে আমাদের ক্রেতাদের পাঠানোর উপযুক্ত চূড়ান্ত কয়েল তৈরি করতে মাত্র তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।”

বর্তমানে গোটা উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য কয়েক দিন সময় লাগে। নতুন প্রযুক্তির দৌলতে গ্রিন স্টিল ব্যয়ও কমাবে। চাহিদাও বেড়ে যাবে।

About

Popular Links