Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশি শ্রমিক নির্যাতন: ব্যবস্থা নিচ্ছে মালয়েশিয়া

ডাব্লিউআরপির বিরুদ্ধে ৩ মাস ধরে তাদের বেতন না দেওয়াসহ সরকারি তদন্তে ৪২টি অভিযোগের আলামত মালয়েশিয়ার সরকার

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৫৭ পিএম

বাংলাদেশি শ্রমিকদের নির্যাতনের আলামত পাওয়ায় মালয়েশিয়ার চিকিৎসা সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউআরপি’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

মালয়েশিয়ার সংবাদ সংস্থা মালয় মেইলের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩ মাস ধরে তাদের বেতন না দেওয়াসহ সরকারি তদন্তে ৪২টি অভিযোগের আলামত পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই মামলা করতে যাচ্ছে মালয়েশীয় সরকার।

গত বছরের আগস্ট থেকে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মালয়েশীয় সরকার তদন্ত করছে বলে বৃহস্পতিবার দেশটির  মানব সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী এম. কুলাসেগারান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ৪২ টি অভিযোগের আলামত পাওয়া গেছে। নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কোম্পানিটি শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে"। তবে, শ্রম আইনের কোন ধারার আওতায় মালয়েশীয় সরকার মামলাটি দায়ের করবে সে ব্যাপারে কিছু জানাননি কুলাসেগারান।

এসময় বিদেশি শ্রমিকদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "‘স্থানীয় শ্রমিকরাতো কোনও অভিযোগ করেন না। কারণ কোম্পানিগুলো জানে যে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে তারা শ্রম দফতরে চলে যাবে। বিদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে এটা কেন? এটা ঠিক নয়।"

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডব্লিউআরপি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানায় কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ওভারটাইম করানোর পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করা হচ্ছে।

কর্মরত শ্রমিকেরা গার্ডিয়ানকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বেতন বকেয়া রাখা, ঋণের জালে আটকানো ও পাসপোর্ট জব্দ করে রাখার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। শ্রমিকদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গার্ডিয়ান অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ‘আধুনিক শ্রমদাসত্ব’ পরিস্থিতি বিরাজমান বলে তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল।

এছাড়াও ডব্লিউআরপি এক সম্ভাব্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ঘুরে আসার পর বলেছিলেন, "এত বাজে কর্মপরিবেশ আমি কোথাও দেখিনি।  এক হাজার ৮০০ শ্রমিক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হোস্টেলে রাখা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিককে।

তবে, সেসময় ডব্লিউআরপি কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নাকচ করে দেয়।

About

Popular Links