Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক মাসে ভারতে টমেটো ২০০ থেকে নেমেছে পাঁচ রুপির নিচে

  • চাষিরা টমেটো বিক্রি করে যথাযথ দাম পাচ্ছেন না
  • অনেকেই টমেটো ফেলে দিচ্ছেন বা ধ্বংস করে ফেলছেন
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:০১ পিএম

ভারতের বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছিল টমেটোর দাম। এমনকি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০ রুপিতেও। তবে এক মাসের ব্যবধানে সবজিটির দাম নেমে এসেছে পাঁচ রুপির নিচে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, চলতি মৌসুমে ভারতে টমেটোর বিপুল উৎপাদন হয়েছে। ফলে দাম পড়ে গেছে। আর দাম এতটাই কমেছে, যে তা এক মাসের ব্যবধানে ২০০ রুপি থেকে পাঁচ রুপির নিচে নেমেছে।

এর জেরে চাষিরা পর্যাপ্ত দাম পাচ্ছেন না। অনেকেই টমেটো ফেলে দিচ্ছেন বা ধ্বংস করে ফেলছেন।

মহারাষ্ট্রের নাসিকের কৃষিকর্মী শচীন হোলকার বলেন, “বাজারের এ ধরনের ওঠানামা ঠেকানোর একমাত্র পথ হচ্ছে, টমেটোর জন্য ন্যূনতম মূল্য সহায়তার ব্যবস্থা করা।”

এই পরিস্থিতিতে যে চাষিরা টমেটো বিক্রি করেছেন তাদের ভাষ্য হচ্ছে, বিনিয়োগের অর্ধেক অর্থও তোলা সম্ভব হয়নি। এক একর জমিতে টমেটো চাষ করতে অন্তত দুই লাখ রুপি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।

মহারাষ্ট্রের পুনেতে টমেটোর দাম কেজিতে পাঁচ রুপিতে নেমে এসেছে। এছাড়া নাসিকে ২০ কেজি টমেটোর দাম ছয় সপ্তাহ আগে যেখানে ২,০০০ রুপির বেশি ছিল, তা এখন ৯০ রুপিতে নেমে এসেছে।

এছাড়া কোলহাপুরের খুচরা বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২-৩ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ২২০ টাকা।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারতের বাজারে টমেটোর দাম কমছে। এই পরিস্থিতি দেখে পুনে জেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকেরা টমেটো চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রে টমেটোর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হলো পিমপালগাঁও। সেখানে দৈনিক ৪০ লাখ কেজি টমেটোর নিলাম হয়। সেখানেও দাম অনেকটা পড়ে গেছে।

রাজ্যের কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, নাসিক জেলায় গড়ে প্রায় ১৭,০০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়। যেখান থেকে বছরে প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদন হয়। এ বছর দ্বিগুণ ৩৫,০০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১২.১৭ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হতে পারে।

নারায়ণগাঁও টমেটো বাজারের সচিব শারদ গোঙ্গাদে বলেন, “জুলাইয়ে নারায়ণগাঁও বাজারে পাইকারি দাম প্রতি ক্রেটে ৩,২০০ টাকার মতো বেড়েছিল। ফলে অনেক কৃষক উৎসাহী হয়ে টমেটো চাষ করেন। ফলন হয় বাম্পার। কিন্তু অতিরিক্ত ফলনের কারণে এখন দাম কমে গেছে।”

সোলাপুর জেলার কোথালে গ্রামের কৃষক বিবেক পতি (৩৯) দেড় একর জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় তার শঙ্কা, পরিবহন খরচও উঠে আসবে না। এজন্য তিনি ক্ষেত থেকেই সব টমেটো নষ্ট করে ফেলেছেন।

তিনি বলেন, “২৩ কেজির ক্রেটের ১০০টি ক্রেট কাছাকাছি মোদনিম্ব মন্ডি বাজারে নিতে ৮,৫০০ রুপি পরিবহন ব্যয় হতো। কিন্তু সবগুলো আমি ৪,০০০ রুপির বেশি বিক্রি করতে পারতাম না। এগুলো চাষে ১ লাখ রুপির মতো খরচ হয়েছে। এজন্য সব নষ্ট করেছি।”

এছাড়াও সোলাপুর জেলার অনেক কৃষক জমিতে টমেটো পচতে দিয়েছেন বা ট্রাক্টর দিয়ে ফসল নষ্ট করেছেন।

About

Popular Links