Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিকিমে আকস্মিক প্রবল বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

  • গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় এই বন্যা
  • ৭৫ জন এখনও নিখোঁজ
  • ২,৪০০ সরানো হয়েছে, ত্রাণ শিবিরে ৭,৬০০ 
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:২৫ পিএম

ভারতের হিমালয়ে হিমবাহী একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ে সৃষ্ট প্রবল বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজদের সন্ধান করছেন উদ্ধারকারীরা।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতে সিকিমের পার্বত্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের লোনাক হ্রদের পানি উপচে বের হতে শুরু করে। ওই পানি তিস্তা নদীতে বড় বন্যা সৃষ্টি করে।

এই ঘটনাকে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিকিমের কর্তৃপক্ষ জানায়, জনপ্রিয় উত্সব ও রাজ্যে পর্যটন মৌসুমের আগে এই দুর্যোগ অন্তত ২২,০০০ স্থানীয় বাসিন্দার জীবনকে প্রভাবিত করবে।

রিভার র‍্যাফটিং ব্যবসার মালিক তিস্তা উপত্যকার বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জাভেদ আহমেদ আনসারি বলেন, রাতে জানতে পারি ভোর তিনটার দিকে পানির স্তর বাড়তে পারে। আমরা জীবন বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে যাই। আমরা জঙ্গলের মধ্যে পাহাড়ের দিকে ছুটে গেলাম... এর পরই আমরা ঘরবাড়ি ভেসে যেতে দেখলাম। আমি এখন শুধু আমাদের বাড়ির প্রথম তলা দেখতে পাচ্ছি যেটা বালিতে ভরা, সবকিছুই তলিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোনাক হ্রদে হিমবাহ বন্যার জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এখনও তৈরি করা যায়নি। এটা চালু করা গেলে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আরও সময় পাওয়া যেতো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিকিমের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ১৮ জন মারা গেছেন। পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জরুরি সেবাদানকর্মীরা ভেসে যাওয়া আরও ২২টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

আনুমানিক ৭৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সিকিমের কর্মকর্তা সেটেন ভুটিয়া টেলিফোনে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় পানির স্তর কমে গেছে কিন্তু উত্তর সিকিম সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ত্রাণ দল সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন ৭,৬০০ জন। ওই এলাকায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারত সরকার জানায়, রাজ্যে ১৫টি সেতু ভেসে গেছে, উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটছে। তিস্তায় এনএইচপিসি হাইড্রোপাওয়ার স্টেশনের সব সেতু হয় পানির নিচে অথবা ভেসে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সব সড়ক, মহাসড়কে ঘোলা পানি, পলি ও পাথর ছড়িয়ে আছে। বহু যানবাহন আটকা পড়েছে।

সেনাবাহিনী বলছে, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় হেলিকপ্টারে করে আটকা পড়া ১,৫০০ পর্যটককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরকসহ সামরিক সরঞ্জাম তিস্তা নদীতে ভেসে গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রদীপ কুমার বর্মা এএনআই নিউজ এজেন্সিকে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি প্রতিবেশী জেলায় স্থানীয়রা একটি মর্টার শেল তুলেছিল যা পরে বিস্ফোরিত হয়, এতে এক শিশু নিহত এবং ছয়জন আহত হয়।”

আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে সিকিমে ১০১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। বন্যা অবস্থা ১৯৬৮ সালের অক্টোবরের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে আছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানায়, শুক্রবার এই অঞ্চলের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেপাল, ভুটান ও  চীনের মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল সিকিম ৬৫০,০০০ জনসংখ্যার একটি ছোট বৌদ্ধ রাজ্য। রাজ্যের প্রধান মহাসড়কটি এটিকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করে। কিন্তু বন্যায় সেই সড়ক ধসে পড়ায় একরকম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই রাজ্য।

About

Popular Links