Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বন্যপ্রাণীদের কাছে সিংহের গর্জনের চেয়েও মানুষের কণ্ঠ বেশি ভয়ঙ্কর

৯৫% প্রাণী মানুষের কণ্ঠ শুনে ভয় পায়

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৮ পিএম

সিংহের শব্দের চেয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে বেশি ভয় সৃষ্টি করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গবেষণার জন্য প্রাণীরা যেখান থেকে পানি পান করে, সেখানে স্পিকার লুকিয়ে রাখা হয়। স্পিকারে স্থানীয় ভাষায় মানুষের কথোপকথন বাজানো হয়।

এতে দেখা যায়, ৯৫% প্রাণী এতে ভীত হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

একইভাবে স্পিকারে করা গর্জন বাজানো হয়। তবে তাতে প্রাণীরা কম ভীত ছিল। হাতিরা এই আওয়াজ পেয়ে সেই শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে যায়।

গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিকার ধরতে বন্দুক ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের কারণে হরিণ, হাতি, জিরাফ, চিতাবাঘ, ওয়ারথগের মতো কিছু প্রাণী মানুষকে ভয় পায়।

এতে বলা হয়, এই বিষয়টি শুধু পার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মধ্য দিয়ে পুরো চিত্রটি উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বন্যপ্রাণীরা অন্য যেকোনো শিকারীর চেয়ে মানুষকে বেশি ভয় পায়।

গবেষকরা বলছেন, দর্শনার্থীরা প্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। তারা অসাবধানতাবশত প্রাণীদের ভয় দেখায়। এই বিষয়টি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে।

গবেষক ড. লিয়ানা জেনেত্তি বিবিসিকে বলেন, “এই গবেষণায় প্রাণীদের ভয়ের বাস্তুতন্ত্র উঠে এসেছে। মূলত তাদের ওপর শিকারের প্রভাব কতটা তাই দেখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “শিকার করা থামছে না। ফলে প্রাণী কমছে। গবেষণায় দেখেছি, শিকারির ভয়েও প্রাণীর সংখ্যা কমতে পারে।”

এই গবেষক বলছেন, বন্যপ্রাণীর মধ্যে মানুষ যে ভয়ের সঞ্চার করেছে, তা বুঝতে পারার মধ্যে এটির সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে। ফলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও সুরক্ষিত অঞ্চল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

গবেষকদের মতে, “দুর্বল প্রাণীগুলো রক্ষায় মানুষের শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। বেআইনি শিকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতেও এই গবেষণার সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।”

About

Popular Links