Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসরায়েলের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত সৌদি আরবের

গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কারণে ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে সৌদি আরব

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৫ পিএম

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে সৌদি আরব। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে সংঘাতের মধ্যেই এমন খবর এলো।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা করে হামাস। একযোগে পাঁচ হাজার রকেট ছোড়ে তারা। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ৭২৪ শিশু ও ৪৫৮ জন নারীসহ অন্তত ২,২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারসহ মৃত্যু হয় ৩২৪ জনের। এ পর্যন্ত হামলায় আহত হয়েছেন ৮,৭১৪ জন।

সূত্র জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিষয়ে আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এ সিদ্ধান্তের কথা দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনে সংঘাতের মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরব গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা চান প্রিন্স ফয়সাল। একই সঙ্গে যেকোনো পক্ষেরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করাটা সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করে বলে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনি জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নির্দেশকে স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছে রিয়াদ। একই সঙ্গে সেখানকার নিরুপায় বেসামরিক নাগরিকদের ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানাচ্ছে।

ইসলামের পবিত্রতম স্থান উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরব ইসরায়েলকে কখনই স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২০ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরইমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

সৌদি আরবও যাতে একইভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে সেজন্য রিয়াদকে চাপ দিছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।

ডি ফ্যাক্টো শাসক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটন থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে সহায়তাসহ বিভিন্ন শর্তে আলোচনায় বসেছিল।

সেপ্টেম্বরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, “প্রতিদিন আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি যাচ্ছি। যদিও তার মন্তব্য ছিল ফিলিস্তিন ইস্যুটি রিয়াদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “আমাদের সেই অংশটি সমাধান করতে হবে। আমাদের ফিলিস্তিনিদের জীবন সহজ করতে হবে।”

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও অনেক বিশ্লেষক এই চুক্তিটিকে একটি দীর্ঘ সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছিলেন।

ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার পর থেকেই রিয়াদ ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার, সৌদি আরব গাজার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণের নিন্দা করেছে।

এছাড়া রিয়াদ চলমান উত্তেজনা বন্ধ করতে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে গাজার বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সাত বছরের বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের পর মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসে ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করে সৌদি আরব ও ইরান। এরপর এবার গাজা ইস্যুতে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করলেন।

About

Popular Links