Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

  • ব্রাজিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই খসড়া প্রস্তাবটি এনেছিল
  • নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১২ পিএম

গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতির জন্য মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনা একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) ব্রাজিলের আনা এই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া হয়। 

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই খসড়া প্রস্তাবটি এনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে গত কয়েকদিনে প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি ২ বার বিলম্বিত হয়।

বুধবার ভোটাভুটি হলেও নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। রাশিয়া ও ব্রিটেন ভোটদানে বিরত ছিল।

এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। ভোটাভুটিতে ওই প্রস্তাব পাস হয়নি।

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে রাশিয়ার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে চারটি দেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত ছিল আরও ছয় দেশ।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, “আমরা আবারও ভণ্ডামি ও আমাদের মার্কিন সহকর্মীদের দ্বিমুখী নীতির সাক্ষী হয়েছি।”

তিনি বলেন, “মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার আনা একটি খসড়া প্রস্তাবও সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়নি।”

বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজায় জিম্মিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকারের জন্য অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। একযোগে পাঁচ হাজার রকেট ছোড়ে তারা। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েক সহস্র মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হামাসের এই হামলার জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকাকে “জনমানবশূন্য দ্বীপে” পরিণত করার হুঁশিয়ারি দেন।

এর মধ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য গাজা সীমান্তে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ করে ইসরায়েল। এতে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের আবারও ভয়ানক মানবিক সঙ্কটের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী হামলায় “সাদা ফসফরাস” ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিন। এতে মানবিক সংকট ও ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

হামাস কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩,৪৭৮ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২,০৬৫ জন।

এছাড়া ১৭ অক্টোবর মধ্য গাজার আল-আহলি আরব নামে এক হাসপাতালে চালানো হামলায় ৪৭১ জন নিহত ও ৩১৪ জন হন। ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর আহত অনেকেই ওই হাসপাতালে ছিলেন। এ ছাড়া ওই হাসপাতালকে নিরাপদ ভেবে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপরই সেখানে হামলা হয়।

হামলার পর ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হাসপাতালে বোমা হামলায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন অনেকে। হামলার ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

এ হামলার জন্য প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে (পিআইজে) দায়ী করেছে ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন পিআইজে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ইসরায়েলের হামলায় অবরুদ্ধ গাজায় অন্তত ৪ লাখ ২৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গাজার ১,৩০০ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

জেনেভায় ওসিএইচএর মুখপাত্র জেনস লার্কে বলেন, “সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় আরও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটতে পারে।”

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েলি বিমান হামলা গাজাজুড়ে বাসস্থান, স্কুলে আঘাত করেছে। এমনকি তারা বড় টাওয়ার ব্লক, গাজার স্কুল ও আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, “আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, হামলার ঘটনা ঘটলেও তাতে বেসামরিক জনসংখ্যা এবং বেসামরিক বস্তুকে রক্ষা করতে হবে।”

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গাজার হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিতের জন্য একটি নিরাপদ করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইসরায়েলে ও গাজা উপত্যকার আশেপাশে প্রায় ১,৫০০ হামাস যোদ্ধার মরদেহ পাওয়া গেছে। তারা গাজা উপত্যকায় ২০০টিরও বেশি স্থানে আক্রমণ চালিয়েছে।

ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের বাসস্থান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। ভয়াবহ খাদ্য, চিকিৎসা ও জ্বালানি সংকটসহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনিরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে দুই ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এদিকে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছে, লেবানন সীমান্তের সংঘাতে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্র উন্নতমানের হওয়ায় ইসরায়েলের জন্য এটি হুমকির কারণ হবে। হিজবুল্লাহ দীর্ঘ সময় ধরে বহু যুদ্ধে জড়িয়েছে। তাদের কাছেও হাজার হাজার রকেট মজুত রয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি খারাপ হলে ওই অঞ্চলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই।

About

Popular Links