Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হামাস: গাজার ঐতিহাসিক গির্জায় ইসরায়েলের হামলায় বহু হতাহত

  • বোমা হামলায় কাউন্সিল অব চার্চ স্টুয়ার্ডস ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে
  • নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে
  • ইসরায়েলি হামলায় ৩,৭৮৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০০ পিএম

গাজা উপত্যকায় একটি গ্রীক অর্থোডক্স গির্জায় ইসরায়েল বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। এতে বহু হতাহত হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে গাজা শহরের গ্রীক অর্থোডক্স সেন্ট পোরফিরিয়াস চার্চের কম্পাউন্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে বলেন, বোমা হামলায় কাউন্সিল অব চার্চ স্টুয়ার্ডস ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এ গির্জায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম ফিলিস্তিনিরাও আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বোমা হামলায় এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত আরও অনেকে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজার আল-জায়তুন এলাকায় সেন্ট পোরফিরিয়াস চার্চে হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েলি হামলার শিকার এই গির্জাটি গাজার সবচেয়ে পুরোনো এবং কয়েক শতাব্দী আগে নির্মিত।

এদিকে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি চার্চ কমিটি।

জেরুজালেমের অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেট এ হামলার কঠোর নিন্দা করেন।

তিনি বলেন, গত ১৩ দিনে আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে নিরপরাধ নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জীবন বিপন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘরহারা মানুষগুলো যেসব জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন, সেই জায়গাকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ যা উপেক্ষা করা যায় না।

মঙ্গলবার বিমান হামলার শিকার আল-আহলি আরব হাসপাতাল থেকে গির্জাটি খুব বেশি দূরে নয়।

হত্যাকাণ্ডের জেরে উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

গির্জার ক্ষতির ব্যাখ্যা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় নিজেদের সম্পত্তি গড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। একযোগে পাঁচ হাজার রকেট ছোড়ে তারা। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েক সহস্র মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হামাসের এই হামলার জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকাকে “জনমানবশূন্য দ্বীপে” পরিণত করার হুঁশিয়ারি দেন।

এর মধ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য গাজা সীমান্তে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ করে ইসরায়েল। এতে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের আবারও ভয়ানক মানবিক সঙ্কটের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী হামলায় “সাদা ফসফরাস” ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিন। এতে মানবিক সংকট ও ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শুক্রবার গাজার হামাস-শাসিত সরকার বলেছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৭৮৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১,৫২৪ জন শিশু।

এছাড়া ১৭ অক্টোবর মধ্য গাজার আল-আহলি আরব নামে এক হাসপাতালে চালানো হামলায় ৪৭১ জন নিহত ও ৩১৪ জন হন। ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর আহত অনেকেই ওই হাসপাতালে ছিলেন। এ ছাড়া ওই হাসপাতালকে নিরাপদ ভেবে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপরই সেখানে হামলা হয়।

হামলার পর ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হাসপাতালে বোমা হামলায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন অনেকে। হামলার ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

এ হামলার জন্য প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে (পিআইজে) দায়ী করেছে ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন পিআইজে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত বুধবার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের একটি বাড়িতে বিমান হামলায় একই পরিবারের ১০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী আটজন শিশু রয়েছে। শিশুরা ঘুমন্ত ছিল।

এদিকে, ইসরায়েলের হামলায় অবরুদ্ধ গাজায় অন্তত ৪ লাখ ২৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গাজার ১,৩০০ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

জেনেভায় ওসিএইচএর মুখপাত্র জেনস লার্কে বলেন, “সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় আরও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটতে পারে।”

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েলি বিমান হামলা গাজাজুড়ে বাসস্থান, স্কুলে আঘাত করেছে। এমনকি তারা বড় টাওয়ার ব্লক, গাজার স্কুল ও আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, “আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, হামলার ঘটনা ঘটলেও তাতে বেসামরিক জনসংখ্যা এবং বেসামরিক বস্তুকে রক্ষা করতে হবে।”

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গাজার হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিতের জন্য একটি নিরাপদ করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইসরায়েলে ও গাজা উপত্যকার আশেপাশে প্রায় ১,৫০০ হামাস যোদ্ধার মরদেহ পাওয়া গেছে। তারা গাজা উপত্যকায় ২০০টিরও বেশি স্থানে আক্রমণ চালিয়েছে।

ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের বাসস্থান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। ভয়াবহ খাদ্য, চিকিৎসা ও জ্বালানি সংকটসহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনিরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে দুই ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এদিকে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছে, লেবানন সীমান্তের সংঘাতে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্র উন্নতমানের হওয়ায় ইসরায়েলের জন্য এটি হুমকির কারণ হবে। হিজবুল্লাহ দীর্ঘ সময় ধরে বহু যুদ্ধে জড়িয়েছে। তাদের কাছেও হাজার হাজার রকেট মজুত রয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি খারাপ হলে ওই অঞ্চলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই।

About

Popular Links